যুক্তরাজ্যের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির বড় ধরনের ভরাডুবির পর দলীয় এমপিদের কাছ থেকে পদত্যাগের জোরালো দাবি উঠলেও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি এখনই ক্ষমতা ছাড়ছেন না। নিজের সরকারকে একটি ‘১০ বছরের প্রকল্প’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি ক্ষমতায় টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।
চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিত স্থানীয় নির্বাচনে স্টারমারের লেবার পার্টি গত তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বিপরীতে জনতুষ্টিবাদী ডানপন্থি ‘রিফর্ম ইউকে’ পার্টি অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। এই ভরাডুবির পর লেবার পার্টির ভেতরেই স্টারমারকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে।
নেতৃত্ব নিয়ে টানাপোড়েন
স্টারমার সরকারের সাবেক মন্ত্রী ক্যাথরিন ওয়েস্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, মন্ত্রিসভা যদি সোমবারের মধ্যে স্টারমারকে সরানোর পদক্ষেপ না নেয়, তবে তিনি দলের আইনপ্রণেতাদের সমর্থন নিয়ে সরাসরি নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ ছুড়বেন।
দলীয় নিয়ম অনুযায়ী, নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ শুরু করতে হলে অন্তত ২০ শতাংশ বা ৮১ জন পার্লামেন্ট সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। ইতোমধ্যে প্রায় ৩০ জন সংসদ সদস্য প্রকাশ্যে স্টারমারের নেতৃত্বের বিরোধিতা করেছেন।
স্টারমার যদি এখন পদত্যাগ করেন বা তাকে সরানো হয়, তবে গত এক দশকে যুক্তরাজ্য তাদের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী দেখবে। অন্যদিকে স্টারমার যদি পূর্ণ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে পারেন এবং দ্বিতীয় মেয়াদে জয়ী হন, তবে মার্গারেট থ্যাচার ও টনি ব্লেয়ারের পর তিনি হবেন দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা যুক্তরাজ্যের তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী।
কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বকে চ্যালেন্জ করে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার তালিকায় যাদের নাম উল্লেখ্য, তারা হলেন- অ্যান্জেলা রায়নার, ওয়েস স্ট্রিটিং, ক্যাথেরিন ওয়েস্ট , এন্ডি বার্নহাম ও শাবানা মাহমুদ।
অ্যান্জেলা রায়নার :
কিয়ার স্টারমারের সাবেক ডেপুটি এবং বামপন্থি ট্রেড ইউনিয়নবাদী। তিনি দলের ভেতর স্টারমারের নীতির সমালোচক এবং অনেকেই তাকে বিকল্প নেতা হিসেবে দেখছেন।
ওয়েস স্ট্রিটিং :
কিয়ার স্টারমারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী তিনি। মন্ত্রিসভায় থাকলেও তার নাম সম্ভাব্য নেতৃত্বের লড়াইয়ে আলোচিত হচ্ছে। মূলত তিনি লেবার পার্টির মধ্যপন্থি নেতা। সম্প্রতি গাজা ও জলকল্যাণ ইস্যুতে স্টারমারের বিরোধিতা করায় দলের বামপন্থি নেতাদের কাছেও ব্যাপক জনপ্রিয় তিনি।
শাবানা মাহমুদ :
কিয়ার স্টারমারের মন্ত্রিসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন তিনি। দলের ভেতরের বিভক্তির সময় তিনিও স্টারমারের সরে দাঁড়ানোর সময়সূচি ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন।
এন্ডি বার্নহাম :
গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র। সরাসরি এমপি না হওয়ায় এখনই লড়াই করতে না পারলেও, দলের বামপন্থী অংশের সমর্থন রয়েছে তার পেছনে।
ক্যাথরিন ওয়েস্ট :
লেবার এমপি, যিনি প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, দলের ভেতরের অবস্থা না বদলালে তিনি স্টারমারের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানাবেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন