পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে টানা অস্থিরতার মধ্যেও নিজের অবস্থান থেকে একচুলও সরছেন না তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় ভাঙন ও একের পর এক নেতার বিদায়ের পরও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাকে রাজনৈতিকভাবে থামাতে চাইলে একমাত্র উপায় তাকে হত্যা করা।
দলীয় বিদ্রোহীদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে মমতা তাদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের ঘাসফুল প্রতীক তার নেতৃত্বাধীন দলের কাছেই থাকবে। তার এই বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে, প্রতীক নিয়ে কোনো বিরোধ তৈরি হলে তা আইনি লড়াই পর্যন্ত গড়াতে পারে।
মমতা বলেন, দলের প্রতীক কোথাও যাচ্ছে না। আমাকে থামাতে চাইলে আগে আমাকে মেরে ফেলতে হবে।
এর আগে শনিবার (৪ জুলাই) তৃণমূলে আরেকটি বড় ধাক্কা আসে। দলের রাজ্য সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য পদত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন ধরে মমতার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই নেত্রী পরে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন উপদলে যোগ দেন। এর আগের দিন ঋতব্রতের সমর্থকরা কলকাতায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়।
চন্দ্রিমার পদত্যাগ প্রসঙ্গে মমতা জানান, তিনি আগেই এ বিষয়ে তাকে অবহিত করেছিলেন। মমতার দাবি, চন্দ্রিমার ছেলে আগে থেকেই তৃণমূলবিরোধী শিবিরের সঙ্গে যুক্ত থাকায় এমন সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে তিনি ধারণা করেছিলেন।
বিদ্রোহী শিবির থেকে তাকে উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব দেওয়া হলেও সেটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মমতা। তিনি বলেন, যারা দল ছেড়েছেন তাদের সঙ্গে তিনি কোনোভাবেই যুক্ত হবেন না। তার ভাষায়, প্রস্তাব দেওয়া তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু আমি কখনোই তাদের সঙ্গে হাত মেলাব না।
এ সময় তিনি আরও দাবি করেন, বিদ্রোহীরা নানা চাপের মুখে দল ছেড়েছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো চাপের কাছে তিনি বা তার দল মাথা নত করবে না এবং বিজেপির কাছেও আপস করবেন না।
দলীয় কার্যালয় দখলের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মমতা বলেন, সংশ্লিষ্ট কার্যালয়টি ২০২৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তৃণমূলের নামে লিজ নেওয়া। কোনো ব্যক্তি দল ছেড়ে চলে গেলেই দলের সম্পদ বা সাংগঠনিক অস্তিত্ব শেষ হয়ে যায় না। তার মতে, এটি দল ও ‘মা, মাটি, মানুষের’ সম্পত্তি, যা জোর করে দখল করা যায় না।
সবশেষে তিনি ঘোষণা দেন, আপাতত তার নিজ বাড়ির দলীয় কার্যালয় থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন