ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত্যু ৪ হাজার ছাড়াল

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ১১, ২০২৬, ১০:১৫ এএম
ছবি- সংগৃহীত

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ রদ্রিগেজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, এ দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪ হাজার ১১৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৬ হাজার ৭৪০ জন মানুষ আহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার পরিবার গৃহহীন ও বাস্তুচ্যুত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জর্জ রদ্রিগেজ দুর্যোগ পরবর্তী ত্রাণ ও উদ্ধারকাজের সর্বশেষ বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, ভয়াবহ এই সংকটের পর থেকে এখন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত ৮৬ হাজার ৭৯৪টি পরিবারকে জরুরি সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্ধারকারীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৬ হাজার ৪৬২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে ভূমিকম্পের তীব্রতায় বিস্তীর্ণ এলাকার ৮৫৬টি ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সম্পূর্ণরূপে ধসে পড়েছে আরও ১৯০টি ভবন।

দুর্গত এলাকার মানুষের জীবন বাঁচাতে ভেনেজুয়েলা প্রশাসন ব্যাপক মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ইতিমধ্যে ৯ হাজার ৭৬৬ মেট্রিক টন খাদ্যসামগ্রী এবং ১ কোটি ৩৯ লাখ লিটারেরও বেশি সুপেয় পানি বিতরণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি আহত ও অসুস্থ ২৯ হাজার ৯৬৬ জন মানুষকে জরুরি চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে। দুর্গতদের আশ্রয় দিতে তাৎক্ষণিকভাবে ৮৯টি অস্থায়ী ত্রাণ শিবির বা ক্যাম্প স্থাপন করেছে কর্তৃপক্ষ।

বিপুল এই দুর্যোগ সামাল দিতে মাঠপর্যায়ে বিশাল কর্মী বাহিনী কাজ করছে। উদ্ধারকাজে গতি আনতে বর্তমানে ৩০ হাজার ৭৬ জন সরকারি কর্মী এবং ২৯ হাজার ৮৪৩ জন স্বেচ্ছাসেবক দিনরাত পরিশ্রম করছেন। তাদের সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন ৩ হাজার ৪৫৪ জন আন্তর্জাতিক উদ্ধারকর্মীও।

এদিকে, মূল ভূমিকম্পের পর থেকে ওই অঞ্চলে আরও ১ হাজার ১৭১টি মৃদু ও মাঝারি ধরনের আফটারশক বা অনুকম্পন রেকর্ড করেছে স্থানীয় আবহাওয়া দপ্তর।

গত ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভয়াবহ এই জোড়া ভূমিকম্পের কারণে পুরো দেশজুড়ে ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়। এই মানবিক বিপর্যয় মোকাবিলায় বর্তমানে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে ব্যাপক উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।