ভারতের বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীকে আটক করা হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের দিকে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে যোগ দেওয়ার পর মঙ্গলবার পুলিশ তাকে আটক করে একটি বাসে নিয়ে যায়।
বুধবার (২২ জুলাই) নিজের আটক হওয়ার অভিজ্ঞতা এবং চলমান আন্দোলন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রাহুল গান্ধী দাবি করেন, আটকের সময় এক পুলিশ সদস্য তার কানে কানে বলেন, এই সরকারের পতন ঘটিয়ে দিন।
রাহুল বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে। তার অভিযোগ, শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে আসছেন এবং তিনি দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। তাই অবিলম্বে তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা, বিশেষ করে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এ ইস্যুতে বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে বিক্ষোভ ও আন্দোলন চলছে এবং আন্দোলনকারীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার।
রাহুল গান্ধীর দাবি, গত ১২ বছরে দেশে মোট ১৫২ বার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গড়ে প্রতি মাসে অন্তত একবার এমন ঘটনা ঘটেছে, যার প্রভাবে প্রায় সাড়ে সাত কোটি শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের বড় অংশই মধ্যবিত্ত পরিবারের, যারা সন্তানদের ভবিষ্যতের আশায় তাদের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করেছেন।
এছাড়া রাহুল অভিযোগ করেন, গত এক দশকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো জবাবদিহি বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যা পুরো ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই তুলে ধরে বলে তিনি মন্তব্য করেন।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন