ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

জনসংখ্যা বাড়াতে রাতে বিদ্যুৎ–ইন্টারনেট বন্ধের পরিকল্পনা!

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫, ১১:১৫ পিএম
ছবি- সংগৃহীত

একদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের চাপ, অন্যদিকে ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকা জন্মহার—দুই সংকটে নতুন সমাধান খুঁজছে রাশিয়া। জনসংখ্যা বৃদ্ধি করতে রাতের নির্দিষ্ট সময়ে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপের পরিকল্পনা নিয়ে দেশটিতে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা।

লাইভ মিন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, উন্নত বিশ্বজুড়ে জন্মহার যখন নিম্নমুখী, তখন রাশিয়ায় উঠে এসেছে এই ব্যতিক্রমী প্রস্তাব। ধারণাটির মূল যুক্তি হলো, রাতে স্ক্রিনে ডুবে থাকার অভ্যাস কমলে মানুষ বেশি বিশ্রাম নেবে, পরিবারকে সময় দেবে এবং পারিবারিক সম্পর্ক দৃঢ় হবে। এতে সন্তান জন্মদানে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন প্রস্তাবের সমর্থকেরা।

তাদের মতে, স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন এনেছে। রাত জেগে স্ক্রিনে সময় কাটানো ঘুমের ব্যাঘাত ঘটানোর পাশাপাশি পারিবারিক যোগাযোগ কমিয়ে দিচ্ছে, যা জন্মহার হ্রাসের একটি কারণ।

তবে সমালোচকদের বক্তব্য ভিন্ন। তারা বলছেন, জন্মহার কমার পেছনে বিদ্যুৎ বা ইন্টারনেট নয়; বরং আবাসন সংকট, উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়, চাকরির অনিশ্চয়তা এবং সন্তানের শিক্ষা ও লালন-পালনের বাড়তি খরচই বড় ভূমিকা রাখছে। তাদের মতে, রাষ্ট্রীয় নির্দেশে আবেগ বা রোমান্স তৈরি করা বাস্তবসম্মত নয়।

এ ছাড়া রাতে কাজ করা মানুষ, অনলাইন শিক্ষার্থী, ফ্রিল্যান্সার কিংবা চিকিৎসকদের জন্য এমন সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর হবে—সেই প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে।

জনসংখ্যা বাড়াতে আরও কিছু প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘মিনিস্ট্রি অব সেক্স’ চালুর ধারণা, একবার সন্তান জন্ম দিলে পাঁচ হাজার রুবল পর্যন্ত ভাতা প্রদান, বিয়ের পর প্রথম রাত বিশেষ স্থানে কাটানোর জন্য আর্থিক সহায়তা এবং মাতৃত্বকালীন সুবিধার পাশাপাশি বাবাদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা।

বর্তমানে রাশিয়ায় এককালীন প্রসবকালীন ভাতা, বর্ধিত মাতৃত্বকালীন ছুটি ও পরিবারভিত্তিক আর্থিক সহায়তাসহ নানা কর্মসূচি চালু রয়েছে। এমনকি ১০টির বেশি সন্তানের জন্ম দেওয়া নারীদের জন্য সোভিয়েত যুগের ‘মাদার হিরোইন’ পুরস্কারও পুনরায় চালু করা হয়েছে।

এর আগে গত বছরের শেষ দিকে কর্মক্ষেত্রে মধ্যাহ্নভোজ ও কফি বিরতির ফাঁকে দম্পতিদের সন্তান ধারণে উৎসাহ দেওয়ার মন্তব্য করে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

ফেডারেল স্টেট স্ট্যাটিস্টিকস সার্ভিস (রোসস্ট্যাট)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে রাশিয়ায় মাত্র ১২ লাখ ২২ হাজার শিশুর জন্ম নিবন্ধিত হয়েছে, যা ১৯৯৯ সালের পর সর্বনিম্ন। ২০১৪ সালের তুলনায় জন্মহার কমেছে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।