ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

মাদাগাস্কায় ঘূর্ণিঝড় ‘গেজানি’র তাণ্ডবে নিহত ৯

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

মাদাগাস্কারে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় ‘গেজানি’র তাণ্ডবে অন্তত ৯ জন নিহত ও ১৯ জন আহত হয়েছেন। দেশটির জাতীয় ঝুঁকি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তর জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে দেশটির পূর্ব উপকূলীয় বন্দরনগরী তুয়ামাসিনায় ঝড়টি আঘাত হানে।

আঘাত হানার সময় গেজানির বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৯৫ কিলোমিটারের বেশি ছিল। পরে তা কমে প্রায় ১১০ কিলোমিটারে নেমে এলেও আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করেছে, পূর্ব থেকে পশ্চিমে দ্বীপ অতিক্রমকালে ব্যাপক বন্যা, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একাধিক অঞ্চলে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে, যা আসন্ন বড় ধরনের বিপদের ইঙ্গিত দেয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ঝড়ে ঘরবাড়ির ছাদ উড়ে গেছে, মেঝে প্লাবিত হয়েছে, এমনকি মজবুত দেয়ালও ধসে পড়েছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা ও জলাবদ্ধতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফ্রান্সের রিইউনিয়ন দ্বীপভিত্তিক সাইক্লোন পূর্বাভাস কেন্দ্র সিএমআরএস জানিয়েছে, তুয়ামাসিনা বন্দরে গেজানির সবচেয়ে তীব্র অংশের সরাসরি আঘাত পড়েছে।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থা ওসিএইচএ জানিয়েছে, ঝড়ে ১৮ হাজার ৬০০ ঘরবাড়ি প্লাবিত, ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪৯৩টি শ্রেণিকক্ষ ও ২০টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র। ধানক্ষেতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি পানীয় জলের উৎসও দূষিত হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

এর আগে ৩১ জানুয়ারি উত্তর-পশ্চিম মাদাগাস্কারে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় ‘ফিটিয়া’তে অন্তত ১২ জন নিহত ও ৩১ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। সিএমআরএস বলছে, স্যাটেলাইট যুগে এই অঞ্চলে রেকর্ড হওয়া অন্যতম তীব্র আঘাতগুলোর একটি হতে পারে গেজানি। ১৯৯৪ সালের ঘূর্ণিঝড় জেরালদার সঙ্গে এর তুলনা করা হচ্ছে, যে ঝড়ে অন্তত ২০০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উষ্ণ সমুদ্র ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে উষ্ণমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় আরও তীব্র হয়ে উঠছে; ফলে দ্বীপরাষ্ট্রগুলো বাড়তি ঝুঁকিতে রয়েছে।