জাম্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট এডগার লুঙ্গুর মরদেহ গ্রহণ করেছে দেশটির সরকার। গত বছরের জুন মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার রাজধানী প্রিটোরিয়ার এক হাসপাতালে মৃত্যু বরণ করেন তিনি। লুঙ্গু এবং জাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হাকাইন্দে হিচিলেমার মধ্যে দীর্ঘদিনের বিবাদের জের ধরে তার দেহাবশেষের কী হবে, তা নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের এটিই সর্বশেষ পর্ব। মৃত্যুর আগে লুঙ্গুর অন্ত্যোষ্টিক্রিয়ায় যাতে হিচিলেমা উপস্থিত হতে না পারেন, সেজন্য পরিবারকে নির্দেশনা দিয়ে যান তিনি।
জাম্বিয়া সরকার চেয়েছিল লুঙ্গুর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হোক। কিন্তু সরকারের সঙ্গে সমাধিস্থের সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ার পর, পরিবার ব্যক্তিগত গোরস্থানে তাকে সমাহিত করতে চেয়েছিল।
শেষ পর্যন্ত এ বিবাদ গড়ায় আদালতে। গত বছরের আগস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার এক আদালত জানায়, জাম্বিয়া সরকার লুঙ্গুর মরদেহ চাইলে ফেরত নিতে পারবে, এবং তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করতে পারবে।
আদালতের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে লুঙ্গুর পরিবার। কিন্তু আপিল আদালতে ‘মামলা চালিয়ে যেতে না পারার’ কারণে মরদেহটি জাম্বিয়া সরকারের কাছে হস্তান্তরের রায় দেয় আদালত।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জাম্বিয়ার একটি ইউটিউব নিউজ চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লুঙ্গু পরিবারের মুখপাত্র মাকেবি জুলু জানান, দক্ষিণ আফ্রিকার উচ্চ আদালতে আপিল করবেন তারা। যাতে এডগার লুঙ্গুর মরদেহটি সেই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কেন্দ্রে ফেরত পাঠানো হয় যেখানে এটি মূলত রাখা হয়েছিল।
এডগার লুঙ্গু ২০১৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত জাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ২০২১ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি হাকাইন্দে হিচিলেমার কাছে বিপুল ব্যবধানে নির্বাচনে পরাজিত হন।

