চীনের একটি মাছ ধরার নৌযান আটকের কথা জানিয়েছে জাপান। তল্লাশির জন্য থামতে নির্দেশ দেওয়ার পরও পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল—এমন দাবি করে নৌযানটিকে আটক করে টোকিও। ২০২২ সালের পর এই প্রথম কোনো চীনা মাছ ধরার নৌযান জব্দ করল জাপান।
গত বছরের শেষের দিকে দুই দেশের মধ্যে তিক্ত কূটনৈতিক বিরোধের পর টোকিও ও বেইজিংয়ের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে এ ঘটনা। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপান দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ান থেকে আসা মাছ ধরার জাহাজ জব্দ করেছে।
জাপানের মৎস্য সংস্থা শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) জানিয়েছে, নৌকাটির ক্যাপ্টেন ৪৭ বছর বয়সী চীনা নাগরিক। তাকে বৃহস্পতিবার জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিম নাগাসাকি প্রিফেকচারের জলসীমায় দেখা যায়।
সংস্থাটি এক বিবৃতিতে বলেছে, জাপানের মৎস্য পরিদর্শকরা জাহাজটির ক্যাপ্টেনকে পরিদর্শনের জন্য থামার নির্দেশ দিয়েছিলেন, কিন্তু জাহাজটি তা পালন করতে ব্যর্থ হয় এবং পালিয়ে যায়।
ফলে জাহাজের ক্যাপ্টেনকে একই দিনে গ্রেপ্তার করা হয়। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, সেই সময় জাহাজে আরো ১০ জন ছিলেন।
জাপানের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন এনএইচকে জানিয়েছে, জাহাজটি ম্যাকেরেল ও হর্স ম্যাকেরেলের মতো অনেক মাছ ধরতে পারে। কর্তৃপক্ষের ধারণা, নৌকাটি অবৈধভাবে মাছ ধরার জন্য জাপানের সমুদ্রসীমার (ইইজেড) ভেতরে ঢুকেছিল।
তবে ক্যাপ্টেন অভিযোগ স্বীকার করেছেন কি না, তা তদন্তের স্বার্থে জানানো হয়নি।
নৌকা জব্দের ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটেছে, যখন দুই প্রতিবেশী দেশ জাপান ও চীনের সম্পর্ক আগেই উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। গত নভেম্বরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেন, বেইজিং যদি শক্তি প্রয়োগ করে তাইওয়ান দখলের চেষ্টা করে, তাহলে টোকিও সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে। তার এ বক্তব্যে চীন তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়।
চীন তাইওয়ানকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন অংশ হিসেবে দেখে এবং ভবিষ্যতে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে পুনরায় একীভূত করার কথা বলে। প্রয়োজনে শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও তারা নাকচ করেনি।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকাইচির মন্তব্যকে ‘চরম আপত্তিকর’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাহারের দাবি জানায়। পাশাপাশি জাপানকে ‘আগুন নিয়ে খেলা বন্ধ করতে’ সতর্ক করে।
উত্তেজনার জেরে বেইজিংয়ে জাপানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়। এ ছাড়া চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের নাগরিকদের জাপানে ভ্রমণ ও পড়াশোনার পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানায়।



