নেপালের সাধারণ নির্বাচনের প্রাথমিক ভোট গণনায় বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছে দেশটির রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)। গত বছরের সেপ্টেম্বরে গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া বিরাট একটি অংশ এই দলের হয়ে এবারের নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুর ২টায় নির্বাচন কমিশনের দেওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মাত্র তিন বছর আগে প্রতিষ্ঠিত ‘রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি’ ৭৭টি আসনে এগিয়ে রয়েছে।
বিপরীতে আটটি আসনে নেপালের কংগ্রেস, কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (ইউএমএল) পাঁচটি, এবং নেপালি কমিউনিস্ট পাঁচর্টি পাচটি ও অন্যরা ৪টিতে এগিয়ে আছেন।
এরই মধ্যে একটি করে আসনে আরএসপি এবং নেপালি কংগ্রেস জয় পেয়েছে। ঝাপা-৫ আসনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির চেয়ে ছয় হাজার ভোটে এগিয়ে আছেন আরএসপির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী বালেন্দ্র শাহ। কাঠমান্ডু-১ আসন ব্যাগে পুরেছেন আরএসপির রানজু দর্শনা।
![]()
শুক্রবার সন্ধ্যা বা শনিবার সকাল নাগাদ ২৭৫ আসনের পার্লামেন্টের ১৬৫টি আসনের ফল পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই ১৬৫টি আসনেই প্রত্যক্ষ নির্বাচন হয়। সংখ্যানুপাত পদ্ধতিতে বাকি ১১০টি আসন দলগুলোর মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়।
৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহ নির্বাচনি প্রচারের সময় থেকেই নেপালের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে আধিপত্য বিস্তার করেছেন। ভোট গণনায়ও তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। তিনি তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় অনেক বেশি ভোট পাচ্ছেন।
বালেন্দ্রর প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে নেপালের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলিও রয়েছেন। গত বছর জেন-জি প্রজন্মের তরুণদের প্রবল আন্দোলনের মুখে অলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।
![]()
চীন ও ভারতের মধ্যে অবস্থিত তিন কোটি মানুষের এই দেশে কয়েক দশক ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে। ১৯৯২ সালের পর থেকে দেশটিতে ৩২ বার সরকার পরিবর্তন হয়েছে। এর ফলে দেশটির কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বেকারত্ব বেড়েছে, যার মূলে রয়েছে কাঠামোগত সমস্যা ও ব্যাপক দুর্নীতি।
দীর্ঘদিনের এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে গত সেপ্টেম্বরে। রাজপথে নেমেছেন হাজার হাজার তরুণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার জেরে শুরু হওয়া সেই বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। ব্যাপক সংঘর্ষ ও প্রাণহানির প্রেক্ষাপটে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন