মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতা উপেক্ষা করে ‘নিজেদের ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারে’ কম্বোডিয়ায় নতুন করে হামলা শুরু করেছে থাইল্যান্ড। এর আগে থাইল্যান্ডের সঙ্গে থাকা সব ধরনের সীমান্ত ক্রসিং বন্ধের ঘোষণা দেয় কম্বোডিয়া। এ দুই দেশের মধ্যে রয়েছে ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত। ঔপনেবিশ আমলে ভাগ করা এ সীমান্ত নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। সীমান্তবর্তী কিছু অঞ্চল নিজেদের বলে দাবি করে তারা।
থাই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সুরাসান্ত কংসিরি জানিয়েছেন, নমপেন তাদের অবস্থান পরিবর্তন না করা পর্যন্ত কম্বোডিয়ায় হামলা অব্যাহত রাখবে ব্যাংকক। এ সময় থাইল্যান্ডকে নিজেদের ভূমি ফিরিয়ে দেওয়ায় শান্তির আসল পথ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন বলছে, দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত দুই দেশের ২৫ জন নিহত হয়েছেন। যারমধ্যে সেনার পাশাপাশি বেসামরিক মানুষও আছেন। এছাড়া, চলমান সংঘাতে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন কমপক্ষে ৫ লাখের বেশি মানুষ।
থাই নৌবাহিনীর মুখপাত্র রিয়ার এডমিরাল পারাখ রাত্তানচাইয়াপানের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মাতিচোন অনলাইন জানিয়েছে, ত্রাত প্রদেশের কাছে নিজেদের ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারে তারা নতুন সামরিক অভিযান শুরু করেছেন।
ভোরে শুরু হওয়া এ অভিযানে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে জানিয়ে এ নৌ কর্মকর্তা বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী আত্মরক্ষা এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে।
থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা শত্রুপক্ষকে হটিয়ে দিয়ে ওই অঞ্চলটি পুনরুদ্ধার করেছে।দেশটির পাবলিক টেলিভিশন থাই পিবিএসও জানিয়েছে, হামলা চালানো স্থল থেকে কম্বোডিয়ার সেনাদের সরিয়ে দিয়ে সেখানে থাইল্যান্ডের পতাকা উড়িয়েছেন সেনারা।
টিভি-৩ নামে থাইল্যান্ডের আরেক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রোববার ভোর থেকে সেনা, নৌ এবং বিমানবাহিনী সীমান্তে যৌথ অভিযান শুরু করে।
সর্বশেষ সংঘাতে কত মানুষ হতাহত হয়েছেন সেটি এখনো জানা যায়নি।
কম্বোডিয়ানরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, তাদের সীমান্তবর্তী পুরসাত প্রদেশের থামার দা এলাকায় গোলাবর্ষণ করেছে থাইল্যান্ড।

