ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নিরঙ্কুশ ও ঐতিহাসিক বিজয়ে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানিয়েছে চীন। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকায় নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বাংলাদেশের জনগণকে একটি সফল ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য সাধুবাদ জানানো হয়। একই সঙ্গে নির্বাচনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা বিএনপির নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছে বেইজিং।
চীন আশা প্রকাশ করেছে, এই জনরায়ের মধ্য দিয়ে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় ও কৌশলগত সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে এবং পারস্পরিক উন্নয়নের নতুন এক অধ্যায় সূচিত হবে।
বিবৃতিতে চীনা দূতাবাস উল্লেখ করে যে, ‘১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন এবং নির্বাচনে জয়লাভ করায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছে চীন।
আমরা বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করতে এবং চীন-বাংলাদেশ মৈত্রীর নতুন ইতিহাস রচনা করতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।
দূতাবাসের এই বার্তাটি মূলত তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির বিপুল বিজয়ের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি কূটনৈতিক সমর্থনের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে চীনের এই অবস্থান নতুন সরকারের জন্য একটি বড় ইতিবাচক দিক।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশে চীন তাদের বিনিয়োগ ও উন্নয়ন প্রকল্পগুলো আরও গতিশীল করতে চাইবে। বিশেষ করে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক করিডোর-সংক্রান্ত বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন কোনো চুক্তি বা সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ভারত ও চীনের পক্ষ থেকে আসা এই অভিনন্দন বার্তাগুলো প্রমাণ করে যে, পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও কৌশলগত গুরুত্ব বিশ্বমঞ্চে অপরিবর্তিত রয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কগুলো কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন