ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

শুধু মানুষ নয়, বাঘেরাও করে উপবাস

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম
বাঘ কি সত্যিই উপবাস করে?। ছবি- সংগৃহীত

চীনের হেইলংজিয়াং প্রদেশের সাইবেরিয়ান টাইগার পার্কে প্রায় ২০০ বাঘের জন্য দীর্ঘসময়ের রোটেশনাল উপবাসের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সম্প্রতি দর্শনার্থীর ভিড় হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় বাঘদের অতিরিক্ত খাবার দেওয়া হচ্ছিল, যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

চীনের বসন্ত উৎসবের সময়ে পার্কে দর্শনার্থীর সংখ্যা একেবারে বেড়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি আসেন ৭ হাজার ৭০৮ জন, আর ১৮ ফেব্রুয়ারি সংখ্যাটা ছাড়িয়ে যায় ১০ হাজার। দর্শকরা বাঘদের মাংস খাওয়ানোর সুযোগ পান, ফলে বাঘদের খাদ্যগ্রহণও বেড়ে যায়। তাই গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত এই রোটেশনাল উপবাস কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।

পার্কে মোট ১১টি ফ্রি-রেঞ্জ এনক্লোজার রয়েছে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট কয়েকটি বাঘকে উপবাসের তালিকায় রাখা হয়। সেই বাঘগুলোকে দর্শকের দেওয়া মাংস খাওয়ানো হয় না। পরদিন অন্য এনক্লোজারে একই নিয়ম কার্যকর হয়। এভাবে সকল বাঘের খাদ্য নিয়ন্ত্রণ ও স্বাস্থ্যের ভারসাম্য রাখা হয়।

সাইবেরিয়ান টাইগার বা আমুর টাইগার একাই শিকার করে বেঁচে থাকে। তাদের খাদ্য তালিকায় থাকে বুনো শুয়োর, হরিণের বিভিন্ন প্রজাতি (যেমন- মানচুরিয়ান ওয়াপিটি, লাল হরিণ, সিকা হরিণ), খরগোশ, পিকা, র্যাকুন ডগ এবং কখনো ভাল্লুক। মাঝে মাঝে স্বাদ বদলের জন্য স্যামন মাছ, কচ্ছপ, পাখি, ব্যাঙ ইত্যাদি খায়।

প্রতিদিন গড়ে বাঘের প্রয়োজন হয় প্রায় ৯ কেজি মাংস। তবে প্রকৃতিতে তারা একবার শিকার করলে ২৭-৫০ কেজি একসঙ্গে খায় এবং এক শিকারের পর ৩-৪ দিন না খেয়েও চলতে পারে। অর্থাৎ, প্রকৃতিতে বাঘরা নিয়মিত উপবাসে অভ্যস্ত।

এই রোটেশনাল উপবাস শুধুমাত্র পর্যটন চাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য নয়, বাঘদের স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃতিতে বাঘদের খাদ্যচক্র অনিয়মিত, তাই বৈজ্ঞানিকভাবে নিয়ন্ত্রিত উপবাস তাদের জন্য অস্বাভাবিক নয়। মূল লক্ষ্য হলো অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ রোধ করা।