প্রায় চার বছর ধরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলছে। ইউক্রেনের ০ দশমিক ৮ শতাংশ ভূখণ্ড দখল করতে গিয়ে ৪ লাখের বেশি রুশ সেনা হতাহত হয়েছে।
সম্প্রতি এক পরিসংখ্যানে নিয়ে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
গত ২৭ ডিসেম্বর এবং পরবর্তীতে সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তার জেনারেল স্টাফের সঙ্গে দুই দফায় বৈঠক করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বৈঠকের আগে ও পরে এই দুই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে রাশিয়ার সেনাপ্রধান ভ্যালেরি গেরাসিমভ ইউক্রেন যুদ্ধে ‘অতিরঞ্জিত’ সাফল্যের দাবি করেন।
গেরাসিমভের দাবি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইউক্রেনের ৬ হাজার ৬৪০ বর্গকিলোমিটার (২ হাজার ৫৬৪ বর্গমাইল) এলাকা দখল করেছে রুশ বাহিনী। তাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে অন্তত ৩৩৪টি ইউক্রেনীয় বসতি।
তবে ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার (আইএসডব্লিউ) জানায়, তারা মাত্র ৪ হাজার ৯৫২ বর্গকিলোমিটার (১ হাজার ৯১২ বর্গমাইল) এলাকায় রুশ উপস্থিতির প্রমাণ এবং ২৪৫টি বসতিতে নিয়ন্ত্রণের তথ্য পেয়েছে।
ইউক্রেনের সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কি জানান, ৬ লাখ ৩ হাজার ৫৫০ বর্গকিলোমিটার (২ লাখ ৩৩ হাজার ৩২ বর্গমাইল) ভূখণ্ডের মাত্র ০ দশমিক ৮ শতাংশ হারিয়েছে। অন্যদিকে এই পরিমাণ ভূখণ্ড দখলে নেওয়ার অভিযানে প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার রুশ সেনা নিহত ও আহত হয়েছে।
ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফের হিসাবে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়ার মোট হতাহতের সংখ্যা ১২ লাখ ছাড়িয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ১১ হাজার ৫০০ ট্যাংক, ২৪ হাজার সাঁজোয়া যুদ্ধযান, ৩৭ হাজারের বেশি আর্টিলারি, ৭৮১টি বিমান এবং ৪ হাজারেরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র হারিয়েছে রাশিয়া।
২০২৫ সালের শেষ নাগাদও রুশ বাহিনী পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের পোক্রোভস্ক ও মিরনোহরাদ শহর দখল করতে পারেনি। অথচ পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে এসব অঞ্চল দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুতিনের বাহিনী।
এদিকে যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়া যেসব সাফল্যের দাবি করছে, সেসব ক্রমেই ভুল প্রমাণিত হচ্ছে। যেমন- জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের হুলিয়াইপোল শহরের মাত্র ৫৫ শতাংশ এলাকায় নিয়ন্ত্রণ ছিল, যদিও তারা পুরো শহর দখলের দাবি করেছিল। এমনকি রুশ সামরিক ব্লগাররাও এখন স্বীকার করছেন, দেশটি উত্তর খারকিভ অঞ্চলের কুপিয়ানস্ক শহর দখলের দাবি করলেও আসলে সেখান থেকে রুশ বাহিনী ধীরে ধীরে বিতাড়িত হচ্ছে।
সম্প্রতি ক্রেমলিনঘনিষ্ঠ একটি সংবাদমাধ্যম লিখেছে, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পরিস্থিতি সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়ার কারণে কুপিয়ানস্ক দখলের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত রিজার্ভ বাহিনীকে অন্য এলাকায় পাঠানো হয়।’
ভালদাই লক্ষ্য করে ইউক্রেন হামলা চালিয়েছিল কি না—তা নিয়ে সন্দেহ থাকলেও ইউক্রেনীয় শহরগুলোতে রাশিয়ার হামলার বিষয়টি পরিষ্কার। বছরের শেষ সপ্তাহে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে হাজারের বেশি ড্রোন এবং ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে । ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানায়, তারা রাশিয়ার ৮৬ শতাংশ ড্রোন এবং ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।


