গেল নভেম্বরে ভারতের হরিয়ানা রাজ্য থেকে প্রায় ২ হাজার ৯০০ কেজি বিস্ফোরক জব্দ করা হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই দিল্লিতে একটি গাড়ি বিস্ফোরিত হলে অন্তত ১৫ জন নিহত হন। এরপর থেকেই দেশটিতে আতঙ্ক বাড়ছে। এবার উত্তর ভারতের আরেক রাজ্য রাজস্থানের টঙ্ক জেলায় বিস্ফোরক বোঝাই একটি মারুতি সিয়াজ গাড়ি জব্দ করেছে পুলিশ।
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
জানা গেছে, গাড়িটির ভেতরে ইউরিয়া সারের বস্তার আড়ালে লুকিয়ে রাখা হয় বোমা তৈরির অন্যতম উপাদান অবৈধ অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট। প্রায় ১৫০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের পাশাপাশি অন্তত ২০০টি বিস্ফোরক কার্তুজ এবং ছয় বান্ডিল সেফটি ফিউজ তারও (আনুমানিক ১,১০০ মিটার) জব্দ করা হয়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বারোনি থানা এলাকায় গাড়িটিকে আটক করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা বুন্দি থেকে টঙ্কে সরবরাহের উদ্দেশে গাড়িতে বিস্ফোরক সামগ্রী নিয়ে যাচ্ছিল।
এ ঘটনায় সুরেন্দ্র মোচি ও সুরেন্দ্র পাটওয়া নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। বিস্ফোরকগুলো কোথাও ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিস্ফোরক পরিবহনে ব্যবহৃত গাড়িটিও জব্দ করা হয়েছে।
ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (ডিএসপি) মৃত্যুঞ্জয় মিশ্র বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর দ্রুত একটি বড় অভিযান চালানো হয়, যার মাধ্যমে একটি গাড়ি থেকে বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। দুজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। আমরা মামলার সব দিক খতিয়ে দেখছি।’
উল্লেখ্য, সাদা স্ফটিকজাত রাসায়নিক অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট সাধারণত সার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে গত মাসে দিল্লির লালকেল্লার কাছে সংঘটিত বিস্ফোরণে অন্যান্য উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরকের সঙ্গে এটিও ব্যবহৃত হয়েছিল। ওই বিস্ফোরণে ১৫ জন নিহত হন।
বিস্ফোরণস্থল পর্যালোচনায় জানা যায়, আত্মঘাতী হামলাকারী উমর-উন-নবি সম্ভবত ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) সঠিকভাবে সংযোজন করতে না পারায় বিস্ফোরণটি ঘটে।

