ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ভারতকে ট্রানজিট বানিয়ে বড় ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত, গ্রেপ্তার ৭ বিদেশি

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মার্চ ১৮, ২০২৬, ০৩:০৯ এএম
গ্রেপ্তার হওয়া বিদেশিরা। ছবি : সংগৃহীত

ভারতে এসে নিষিদ্ধ সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে এক মার্কিন নাগরিকসহ ৭ বিদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির সন্ত্রাসবিরোধী সংস্থা ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে একজন মার্কিন নাগরিক এবং ছয়জন ইউক্রেনের নাগরিক রয়েছেন।

এনআইএ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া মার্কিন নাগরিক ম্যাথিউ ভ্যানডাইক মিয়ানমারে অবৈধভাবে প্রবেশ করে সেখানে জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং ভারতের কিছু নিষিদ্ধ সংগঠনকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি ভারতকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করেন।

ভারতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত রয়েছে। তবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কারণে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।

অন্যদিকে ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, গ্রেপ্তার হওয়া বাকি ছয়জন তাদের দেশের নাগরিক। তারা হলেন—হুরবা পেত্রো, স্লিভিয়াক তারাস, ইভান সুকমানোভস্কি, স্তেফানকিভ মারিয়ান, হনচারুক মাকসিম এবং কামিনস্কি ভিক্টর। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

দিল্লির একটি বিশেষ আদালত তাদের ১১ দিনের বিচারিক হেফাজতে পাঠিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইনে মামলা করা হয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, অভিযুক্তরা উত্তর-পূর্ব ভারতের মিজোরামের সংরক্ষিত এলাকায় গিয়ে সেখান থেকে অবৈধভাবে মিয়ানমারে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা জাতিগত সশস্ত্র সংগঠন ও ভারতের নিষিদ্ধ গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন।

তদন্ত সংস্থার অভিযোগ, তারা এসব গোষ্ঠীকে সামরিক প্রশিক্ষণ, অস্ত্র সরবরাহ এবং ড্রোন পরিচালনায় সহায়তা দিয়েছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভাড়াটে যোদ্ধা হিসেবে কাজ করার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মোট ১৪ জন ইউক্রেনীয় নাগরিক বিভিন্ন সময়ে পর্যটক ভিসায় ভারতে প্রবেশ করেন। তারা আসামের গৌহাটি হয়ে মিজোরামে গিয়ে প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই সীমান্ত পেরিয়ে মিয়ানমারে প্রবেশ করেন।

অভিযোগ রয়েছে, ইউরোপ থেকে বিপুলসংখ্যক ড্রোন ভারতে হয়ে মিয়ানমারে পাঠানো হয়েছে, যা এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীর ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করা হয়।

মিজোরাম সরকারের বক্তব্য

২০২৫ সালের মার্চে মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমা বলেন, রাজ্যটি গোপনে বিদেশিদের জন্য মিয়ানমারে যাওয়ার ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল, যা কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের জুন থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় দুই হাজার বিদেশি মিজোরাম ভ্রমণ করেছেন, যাদের অনেকেই প্রকৃত পর্যটক ছিলেন না এবং অনেকে নিঃশব্দে রাজ্য ত্যাগ করেছেন।