রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরই কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দিয়ে একাধিক বড় সিদ্ধান্ত নিল বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই সরকারি চাকরির আবেদনের ঊর্ধ্বসীমা ৫ বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এখন থেকে সাধারণ প্রার্থীরা ৪৫ বছর বয়স পর্যন্ত সরকারি চাকরির জন্য আবেদন করতে পারবেন। অনগ্রসর শ্রেণির ক্ষেত্রে এই সীমা ৪৮ বছর এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতিদের জন্য ৫০ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে নির্বাচনী প্রচারে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘিতে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অভিযোগ করেছিলেন, ২০১৫ সালের পর পশ্চিমবঙ্গে কার্যত কোনো নিয়োগ হয়নি। তার দাবি ছিল, চাকরির অভাবে বহু শিক্ষিত তরুণ-তরুণী বয়সসীমা পেরিয়ে গেছেন।
মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, সরকারের আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি রয়েছে। আগামী সোমবার ফের মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা (ডিএ), সপ্তম বেতন কমিশন এবং বকেয়া ডিএ নিয়ে আলোচনা হবে বলে তিনি জানান।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নারী সুরক্ষা, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি রোধ এবং সরকারি কর্মীদের আর্থিক সুবিধা-সংক্রান্ত বিষয়ও আগামী বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে থাকবে।
এদিন রাজনৈতিক হিংসায় নিহত ৩২১ জন বিজেপি কর্মীর পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণাও করেছে সরকার। নিহতদের পরিবারকে সামাজিক ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতদিন পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের আইএএস, আইপিএস, ডব্লিউবিসিএস ও ডব্লিউবিপিএস কর্মকর্তাদের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণে বাধা ছিল বলে অভিযোগ তুলে নতুন সরকার জানিয়েছে, এখন থেকে অন্যান্য রাজ্যের মতো পশ্চিমবঙ্গের কর্মকর্তারাও সেই সুযোগ পাবেন।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মুখ্যসচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, এদিন থেকে পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা কার্যকর হয়েছে। যদিও আইনজ্ঞদের একাংশের মতে, এই আইন আগেই কার্যকর হয়েছে।
এছাড়া জনগণনা-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিও দ্রুত জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। শুভেন্দুর অভিযোগ, কেন্দ্রের পাঠানো জনগণনা-সংক্রান্ত চিঠি দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রেখেছিল আগের সরকার। তার ভাষায়, এটি শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, দেশের সংবিধানের সঙ্গেও বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।

