গরু জবাই সংক্রান্ত মামলায় বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক স্বস্তি পেয়েছে তামিলনাড়ুর বিজয় সরকার। রাজ্যে গরু বা বাছুর জবাইয়ের ওপর মাদ্রাজ হাইকোর্টের দেওয়া সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার আদেশের কার্যকারিতার ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।
সোমবার (১৪ জুলাই) বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, হাইকোর্টের নির্দেশটি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছে নোটিশও জারি করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৭ মে। সেদিন মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি জি. আর. স্বামীনাথন ও বিচারপতি ভি. লক্ষ্মীনারায়ণের বেঞ্চ রায় দেন, বকরি ঈদসহ বছরের যেকোনো দিনে তামিলনাড়ুতে গরু বা বাছুর জবাই করা যাবে না। একটি জনস্বার্থ মামলার (পিআইএল) শুনানি শেষে আদালত এই নির্দেশ দেন।
তবে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে তামিলনাড়ু সরকার ওই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে।
রাজ্য সরকারের প্রধান যুক্তি ছিল, হাইকোর্টের এই পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা ‘তামিলনাড়ু অ্যানিম্যাল প্রিজারভেশন অ্যাক্ট, ১৯৫৮’–এর পরিপন্থি। ওই আইনে নির্দিষ্ট কিছু শর্তে গবাদিপশু জবাইয়ের অনুমতি রয়েছে। যেমন, কোনো পশুর বয়স ১০ বছরের বেশি হলে, অথবা সেটি প্রজনন কিংবা কৃষিকাজের জন্য সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত হয়ে পড়লে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সনদ সাপেক্ষে জবাই করা যেতে পারে।
সুপ্রিম কোর্টে তামিলনাড়ু সরকার আরও যুক্তি দেয়, বিদ্যমান আইনি কাঠামোর বাইরে গিয়ে হাইকোর্ট এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এমনকি একই রায়ে একদিকে অনুমোদিত কসাইখানায় জবাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হলেও, অন্যদিকে বকরি ঈদ বা অন্য যেকোনো দিনে গরু জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, যা পরস্পরবিরোধী অবস্থান তৈরি করেছে।
রায়ের পক্ষে মাদ্রাজ হাইকোর্ট সংবিধানের রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতির ৪৮ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করেছিল। ওই অনুচ্ছেদে গবাদিপশু সংরক্ষণ এবং জবাই নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে রাষ্ট্রকে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতিগুলো আদালতের মাধ্যমে সরাসরি বাধ্যতামূলকভাবে বাস্তবায়নযোগ্য নয়।
সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশের ফলে আপাতত তামিলনাড়ুতে ১৯৫৮ সালের আইন অনুযায়ী আগের আইনি অবস্থাই বহাল থাকবে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মাদ্রাজ হাইকোর্টের জারি করা সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না। ফলে উৎসবের মৌসুমে রাজ্য প্রশাসনের ওপর থেকে তাৎক্ষণিকভাবে একটি বড় চাপ কমেছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন