ভারতের বিহারে আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে শুক্রবার মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়ায় ক্ষমতাসীন বিজেপি ও কংগ্রেসের কর্মীরা। ঘটনাটি ঘটে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ‘ভোটার অধিকারের যাত্রা’য় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার মাকে নিয়ে অশালীন ভাষা ব্যবহারকে কেন্দ্র করে। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, দুই দলের বিপুল কর্মী একে অপরের ওপর দলীয় পতাকা নিয়ে আক্রমণ চালাচ্ছেন।
এ ঘটনায় বিহারের বিজেপি নেতা নীতিন নবীন বলেন, ‘বিহারবাসীর প্রতিটি ছেলে মাকে অপমানের জবাব দেবে। এর প্রতিশোধ নেওয়া হবে।’
অন্যদিকে কংগ্রেস কর্মী ডা. আশুতোষ অভিযোগ করেন, ‘এটি সরকারের ইন্ধনে ঘটছে। নীতীশ কুমার (বিহারের মুখ্যমন্ত্রী) ভুল করছেন। আমরা এর জবাব দেব।’
গতকাল ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কংগ্রেসের পতাকা গায়ে জড়ানো একজন নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করছেন। এ ঘটনায় বিজেপি মামলা করে এবং কংগ্রেসের কাছে ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানায়। পাটনায় রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধেও মামলা হয়।
পরে দারভাঙ্গা পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সিমরি থানায় এফআইআর দায়েরের পর একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আসামে আয়োজিত এক সমাবেশে বলেন, ‘কংগ্রেস সবসময় মোদিজিকে গালি দেয়। তারা ঘৃণার রাজনীতিকে উসকে দিচ্ছে। রাহুল গান্ধীকে এ ঘটনার জন্য ক্ষমা চাইতে হবে।’
তিনি এটিকে গণতন্ত্রের জন্য ‘কলঙ্ক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস সবচেয়ে নিচু স্তরে নেমে গেছে। এক দরিদ্র মায়ের ছেলে টানা ১১ বছর ধরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন, এটি তারা সহ্য করতে পারছে না।’
বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডাও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও তার মাকে নিয়ে যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তা শালীনতার সব সীমা অতিক্রম করেছে।’ তিনি রাহুল গান্ধী ও রাষ্ট্রীয় জনতা পার্টির (আরজেডি) নেতা তেজস্বী যাদবকে ক্ষমা চাইতে আহ্বান জানান।
বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার ঘটনাটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘দারভাঙ্গায় ভোটাধিকার যাত্রায় কংগ্রেস ও আরজেডির মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী ও তার প্রয়াত মাকে নিয়ে অশালীন ভাষা ব্যবহার অত্যন্ত অনুপযুক্ত, আমি এর নিন্দা জানাচ্ছি।’
তবে কংগ্রেস নেতা পবন খেরা দাবি করেছেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তার মতে, বিজেপি গুরুত্বহীন বিষয় সামনে এনে জনগণকে প্রকৃত সমস্যা থেকে সরিয়ে রাখতে চাইছে।
আপনার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে মতামত লিখুন