ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪৮, বিক্ষোভ গড়াল ১৭তম দিনে

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৩, ২০২৬, ০৮:৪৮ এএম
ইরানে চলমান বিক্ষোভ। ছবি : সংগৃহীত

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিক্ষোভের ১৬তম দিন পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ৬৪৮ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস এ তথ্য প্রকাশ করে। 

অন্যদিকে ইরান দাবি করছে, বিক্ষোভে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর ১০৯ সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে দেশটি বিক্ষোভকারীদের হতাহতের সংখ্যা উল্লেখ করেনি। এরই মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, বিক্ষোভ ‘পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে’ এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ বলছে, সাড়ে ১০ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে ইরান।  বিক্ষোভকারীদের ওপর সরকারের দমনপীড়নের দিকে ইঙ্গিত করে দেশটিতে আবার সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জবাবে ইরান বলেছে, যুদ্ধ না চাইলেও তেহরান পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। সংলাপের পথও খোলা রেখেছে তারা।

এ বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে তেহরানকে একের পর এক হুমকি দিয়ে আসছেন ট্রাম্প। সবশেষ গত রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে বহনকারী উড়োজাহাজ এয়ারফোর্স ওয়ানে ট্রাম্পকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যার মাধ্যমে তেহরান শেষ সীমা অতিক্রম করেছে কি না? জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তারা অতিক্রম করা শুরু করেছে। দেখে তা-ই মনে হচ্ছে।

বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ইরান সরকারের পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র খুব গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়েছে বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীও এর ওপর নজর রাখছে। আমরা কিছু কঠোর পদক্ষেপের বিষয় মাথায় রেখেছি। আমরা এ নিয়ে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাব।’ চলমান সংকট সমাধানে তেহরান আলোচনার জন্য ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বলে উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

দুই দেশের মধ্যে আলোচনার পথ খোলা রাখার কথা জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগেরি। সোমবার তিনি বলেন, ইরান সংলাপ চায়। তবে ইরানিরা বিদেশি হস্তক্ষেপ মেনে নেবে না। আর তেহরানে বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে আলাপের সময় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি বলেন, ইরান যুদ্ধ চায় না। তবে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। সংলাপের জন্যও তেহরান প্রস্তুত।

এবারের বিক্ষোভকে ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। এর আগে দেশটি বড় বড় বিক্ষোভ সামাল দিয়েছে। তবে এবার ইরানে চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে এ বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ইসরায়েলের হামলায় তেহরান-সমর্থিত আঞ্চলিক অনেক সশস্ত্র গোষ্ঠী দুর্বল হয়ে পড়েছে। এতে ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব কমেছে।