× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মার্চ ২, ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম

কুয়েতে একাধিক মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মার্চ ২, ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম

ছবি- সংগৃহীত

ছবি- সংগৃহীত

কুয়েতের আকাশসীমায় একাধিক মার্কিন সামরিক যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) ভোরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে ঘিরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে।

কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে, দেশটির আকাশে কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। তবে বিস্ময়করভাবে এসব বিমানের পাইলট ও ক্রুরা প্রাণে বেঁচে গেছেন এবং তাদের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে।

কুয়েত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে জানান, দুর্ঘটনার পরপরই দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়। কুয়েতি সামরিক বাহিনী ও জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলো যৌথভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পাইলটদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি দাবি করেছিল যে, ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আঘাতে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান কুয়েতের আকাশে ভূপাতিত হয়েছে। যদিও কুয়েত কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এমন কোনো সরাসরি নিশ্চিতকরণ দেওয়া হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে একটি যুদ্ধবিমানকে খাড়াভাবে নিচে পড়ে যেতে দেখা গেছে, তবে সেগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন মধ্যপ্রাচ্য ইতোমধ্যেই চরম অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। গত সপ্তাহান্তে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি ওঠার পর পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটে। যদিও এই দাবির বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্ন রয়েছে, তবুও ইরান প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ শুরু করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর আঞ্চলিক কমান্ড যুক্তরাষ্ট্র সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরান বর্তমানে অঞ্চলজুড়ে বহুমুখী হামলা চালাচ্ছে। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে দুবাই, কুয়েত ও এরবিলের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কাতার ও বাহরাইনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং ইসরায়েলের কিছু আবাসিক এলাকা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের নিকটবর্তী এলাকা থেকে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। একই সময়ে দুবাই ও আবু ধাবিতে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে।

কুয়েত সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ভোরের আলো ফোটার আগেই তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট একাধিক শত্রু লক্ষ্যবস্তু সফলভাবে প্রতিহত করেছে। তবে ঠিক কতগুলো লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে বা সেগুলো ড্রোন নাকি ক্ষেপণাস্ত্র ছিল—সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। কুয়েতি কর্তৃপক্ষ ও মার্কিন বাহিনী যৌথভাবে প্রযুক্তিগত তদন্ত শুরু করেছে, যাতে যুদ্ধবিমানগুলো ঠিক কী কারণে বিধ্বস্ত হলো তা নির্ধারণ করা যায়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আঞ্চলিক এই সংঘাত এখন আর কেবল ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। লেবানন ও কুয়েতের আকাশসীমায় মিসাইল ও ড্রোন হামলার ফলে আন্তর্জাতিক আকাশপথের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাতেও অস্থিরতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, কারণ উপসাগরীয় অঞ্চল বিশ্ব জ্বালানি বাজারের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।

কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জনসাধারণকে গুজবে কান না দিয়ে কেবল সরকারি সূত্রের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রেখে ভবিষ্যৎ যেকোনো হামলা প্রতিহত করার প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।

ক্রমবর্ধমান বিমান বিধ্বস্ত হওয়া, বিস্ফোরণ ও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্য কার্যত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে বলে সামরিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কূটনৈতিক তৎপরতা চালালেও মাঠপর্যায়ে উত্তেজনা প্রশমনের কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত এখনো মিলছে না।

Link copied!