তেহরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে ইসরায়েলি হামলার পর ইরানি জনজীবন এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। শহরজুড়ে এখন বিষাক্ত ‘কালো বৃষ্টি’ এবং কৃত্রিম ‘নিউক্লিয়ার উইন্টার’-এর মতো গুমোট পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
তেলের ডিপোগুলোতে বিস্ফোরণের ফলে প্রচুর পরিমাণে ক্ষতিকারক হাইড্রোকার্বন, সালফার ডাই অক্সাইড ও নাইট্রোজেন অক্সাইড বাতাসে ছড়িয়ে পড়েছে। বৃষ্টির পানির সঙ্গে এসব রাসায়নিক মিশে তীব্র অ্যাসিডিক বৃষ্টি সৃষ্টি করছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃষ্টির পানি ত্বকের সংস্পর্শে এলে ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে এবং ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
শাহরানসহ অন্যান্য শোধনাগার থেকে নির্গত ঘন কালো ধোঁয়ার কারণে আকাশ এমনভাবে ঢেকে গেছে যে দিনের বেলাতেও সূর্যের আলো পৌঁছাতে পারছে না। নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, শহরটি এখন অন্ধকারে নিমজ্জিত। ধোঁয়ার কারণে বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র শ্বাসকষ্ট ও চোখের প্রদাহ দেখা দিচ্ছে।
পরিবেশবিদরা আশঙ্কা করছেন, দূষণ মাটিতে নিকেল ও ভ্যানাডিয়ামের মতো ভারী ধাতু মিশিয়ে দীর্ঘমেয়াদী বিষক্রিয়া সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি পারস্য উপসাগর দিয়ে যাতায়াতকারী যাযাবর পাখিরাও বিপদে পড়েছে; কালো বৃষ্টি ও বিষাক্ত ধোঁয়া তাদের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ নষ্ট করার পাশাপাশি পালকের তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা ধ্বংস করছে, ফলে হাজার হাজার পাখি হাইপোথার্মিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি নাগরিকদের ঘর থেকে বের না হওয়ার এবং খোলা খাবার ঢেকে রাখার পরামর্শ দিয়েছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃষ্টি অত্যন্ত ক্ষয়কারী এবং মানুষের ঘরবাড়ি ও স্থাপনারও ক্ষতি করতে পারে।
সূত্র : DropSiteNews

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন