ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

হরমুজ প্রণালি খুলতে ইরান-ওমানের বৈঠক, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ৭, ২০২৬, ০৭:৩৮ এএম
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার সম্ভাবনা নিয়ে ইরান ও ওমান আলোচনা করেছে। ওমানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বার্তায় জানানো হয়, দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। সেখানে হরমুজ প্রণালি চালুর সম্ভাব্য বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি ওমানের সীমান্তবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে তেহরান এই জলপথ বন্ধ করে রেখেছে।

এদিকে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। দেশটির কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমদ প্রদেশে মার্কিন হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত ও ৮ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েল দাবি করেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা ইরানের ১২০টির বেশি বিমান প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থায় আঘাত হেনেছে।

ইরানের সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় হামলায় ৫ জন নিহত ও প্রায় ১৭০ জন আহত হয়েছেন। পৃথক হামলায় ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) পাঁচ সদস্য নিহত হয়েছেন।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আরদাবিল প্রদেশে এক হামলায় আইআরজিসির সদস্যরা নিহত হন।

অন্যদিকে, আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও। ড্রোন হামলায় কুয়েত-এর বিদ্যুৎ ও পানি শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাহরাইন জানিয়েছে, তাদের একটি পেট্রোলিয়াম স্থাপনায় আগুন লাগলেও তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। একইভাবে আবুধাবির একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় হামলার ধ্বংসাবশেষ থেকে আগুন ধরে সাময়িকভাবে কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

এদিকে ইসরায়েল-এর দক্ষিণাঞ্চলের বীরশেবা শহরের একটি শিল্প এলাকায় ইরানি রকেট আঘাত হেনেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এতে রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর এ নিয়ে ওই এলাকায় তৃতীয়বার হামলার ঘটনা ঘটল।

পরিস্থিতি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান না এলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

তথ্যসূত্র : মিডল ইস্ট আই