ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় মুখ ও পায়ে গুরুতর আঘাত পেয়েছিলেন। তিনি এখন সেই আঘাত থেকে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে তার ঘনিষ্ঠ তিনজনের বরাতে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
শনিবার (১১ এপ্রিল) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়।
সূত্র অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে মানসিকভাবে সচেতন আছেন এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি ও ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নিচ্ছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা সংঘাতের প্রথম দিন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, মধ্য তেহরানে সর্বোচ্চ নেতার বাসভবনে হামলা চালানো হয়। এতে ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনির মুখমণ্ডল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তার এক বা উভয় পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে।
খামেনির ঘনিষ্ঠ তিনজন জানান, হামলায় তার বাবা ও পূর্বসূরি আলি খামেনি নিহত হন, যিনি ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের নেতৃত্বে ছিলেন। একই হামলায় তার স্ত্রী, শ্যালক ও শ্যালিকাও নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে।
তারা আরও জানান, হামলার ফলে মোজতবা খামেনির মুখ বিকৃত হয়ে গেছে এবং তার এক বা উভয় পা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নের সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্রের মতে, তিনি সম্ভবত একটি পা হারিয়েছেন।
প্রকাশ্যে কোনো ছবি বা ভিডিও নেই
হামলার পর মোজতবা খামেনির অবস্থান, শারীরিক অবস্থা এবং শাসনক্ষমতা সম্পর্কে জনসমক্ষে খুব কম তথ্যই পাওয়া যাচ্ছে। তিনি কোথায় আছেন বা কেমন আছেন- এ নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তার বাবার মৃত্যুর পর গত ৮ মার্চ তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে নিয়োগের পর থেকে তার কোনো ছবি, ভিডিও বা অডিও প্রকাশ করা হয়নি।
তার আঘাতের মাত্রা বা প্রকাশ না হওয়ার কারণ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলেও জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের প্রতিনিধিদল কোনো মন্তব্য করেনি।
ইরানের পক্ষ থেকেও তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক সংবাদ পাঠক তাকে‘জানবাজ’ বলে উল্লেখ করেন, যা যুদ্ধে গুরুতরভাবে আহত ব্যক্তিদের জন্য ব্যবহৃত একটি শব্দ।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন