গত সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তির অধীনে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান ও সহায়ক ইউনিটগুলো সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের কিং আব্দুল আজিজ বিমান ঘাঁটিতে মোতায়েন করা হয়েছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠকের আগে এই মোতায়েনের ঘটনা ঘটে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মন্ত্রণালয় জানায়, এই মোতায়েনের লক্ষ্য হলো যৌথ সামরিক সমন্বয় বৃদ্ধি, অভিযানগত প্রস্তুতি জোরদার এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।
তবে এখনো এই মোতায়েন নিয়ে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এবং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তি অনুযায়ী, যেকোনো একটি দেশের বিরুদ্ধে সংঘটিত আগ্রাসনমূলক কাজকে উভয় দেশের বিরুদ্ধে সংঘটিত কাজ হিসেবে গণ্য করা হবে।
ইরান যখন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানায়, তখন এই বিধানটির তাৎপর্য আরও বৃদ্ধি পায়।
এদিকে, সৌদি অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-জাদান ইসলামাবাদ সফরে রয়েছেন। সংবাদ সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সফরকে পাকিস্তানের প্রতি ‘অর্থনৈতিক সমর্থনের নিদর্শন’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, আল-জাদান একদিন আগে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। শরীফের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, ইসলামাবাদ ‘বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে’ সহযোগিতা সম্প্রসারণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এই সফর এমন সময়ে হচ্ছে, যখন ইসলামাবাদে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা চলছে, যদিও এতে আল-জাদান অংশ নিচ্ছেন না।
উল্লেখ্য, পাকিস্তান বর্তমানে অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে এবং সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে যে তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ঋণ ফেরত দেবে। এই ঋণ ২০১৮ সাল থেকে নবায়ন করে আসছিল আবুধাবি।
পাকিস্তান তার ঋণ পরিশোধের জন্য আইএমএফের সহায়তা এবং সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো মিত্র দেশগুলোর ঋণের ওপর নির্ভরশীল, যা দেশটির বার্ষিক আয়ের প্রায় অর্ধেক ব্যয় করে।

