মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এবং বিশ্বব্যাংক গ্রুপ।
রোববার (১২ এপ্রিল) ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এক যৌথ বৈঠকের পর দেওয়া বিবৃতিতে সংস্থাগুলোর প্রধানরা বলেন, যুদ্ধের প্রভাব ‘ব্যাপক, বৈশ্বিক এবং অসম’, যার সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে জ্বালানি আমদানিনির্ভর ও স্বল্প আয়ের দেশগুলোর ওপর।
বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধের কারণে তেল, গ্যাস ও সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় খাদ্য নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের ওপর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু তেল ও গ্যাস রপ্তানিকারক দেশও বড় ধরনের আয়ের ক্ষতির মুখে পড়েছে।
তারা আরও জানান, গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও বাজারে পণ্য সরবরাহ পূর্বের অবস্থায় ফিরতে সময় লাগবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অবকাঠামোর ক্ষতির কারণে জ্বালানি ও সারের দাম দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে। এতে খাদ্য, জ্বালানি ও শিল্প খাতে সরবরাহ সংকট দেখা দিতে পারে।
সংস্থাগুলো জানায়, যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বেড়েছে, কর্মসংস্থান কমেছে এবং পর্যটন খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আইইএ ও আইএমএফের আসন্ন মাসিক তেল বাজার প্রতিবেদন ও বিশ্ব অর্থনৈতিক পূর্বাভাস প্রকাশের আগে এই মূল্যায়ন দেওয়া হলো বলে জানানো হয়। সংস্থাগুলো বলেছে, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর সঙ্গে তারা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নীতিগত পরামর্শ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া অব্যাহত থাকবে।
ভবিষ্যতেও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও সমন্বিত পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে বলে যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন