অবশেষে ইরানে চলমান সামরিক অভিযান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে তেহরান জানিয়েছে, তারা নিজেদের জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় রেখে একটি সমঝোতায় যেতে আগ্রহী। এর মধ্যেই মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি নিয়ে এক পৃষ্ঠার ১৪ দফা সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হওয়ার পথে রয়েছে।
বুধবার (৬ মে) সূত্রের বরাতে অ্যাক্সিওস জানায়, খুব শিগগিরই এই সমঝোতা স্বাক্ষর হতে পারে।
একই ধরনের তথ্য দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্সও। তাদের মতে, উভয় পক্ষের আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং একটি এক পৃষ্ঠার মেমোতে দ্রুতই চূড়ান্ত সমঝোতা হতে পারে।
সমঝোতা স্মারকে কী থাকছে
অ্যাক্সিওস ও সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, ১৪ দফার এই খসড়া স্মারকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির ঘোষণা এবং একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির জন্য ৩০ দিনের আলোচনার প্রস্তাব রয়েছে।
এতে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া, নৌ-নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ৩০ দিনের আলোচনার সময় ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করবে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করবে। আলোচনার অগ্রগতি ব্যাহত হলে আবারও সামরিক পদক্ষেপ বা অবরোধ পুনর্বহালের সুযোগ রাখা হতে পারে।
খসড়ায় বলা হয়েছে, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখবে এবং ভবিষ্যতে সর্বোচ্চ ৩.৬৭ শতাংশ পর্যন্ত সীমিত রাখবে। পাশাপাশি জাতিসংঘের কঠোর পরিদর্শন ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা পরিচালনা না করার বিষয়েও প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।
এছাড়া ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি।
সমঝোতা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে। একইসঙ্গে বিশ্বজুড়ে জব্দ থাকা ইরানের কয়েকশ কোটি ডলার অর্থ ছাড় দেওয়ার বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।
রাজনৈতিক অবস্থান ও প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে চুক্তি ব্যর্থ হলে কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, তেহরান একটি ‘ন্যায্য ও সমন্বিত’ সমঝোতা প্রত্যাশা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনায় অগ্রগতি হলেও চূড়ান্ত চুক্তি এখনো অনিশ্চিত, কারণ পারমাণবিক কর্মসূচি ও নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন