যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত বন্ধে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সমঝোতা আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পর দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইও বলেছেন, দুই পক্ষের অবস্থান আগের চেয়ে কাছাকাছি এসেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল গতকাল শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে। ওই চুক্তির আওতায় দুই পক্ষকে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য ৩০ দিন সময় দেওয়া হতে পারে। প্রয়োজনে এই সময় আরও এক মাস বাড়ানো যাবে।
অন্যদিকে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ৬০ দিনের একটি সমঝোতা স্মারক সই করতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই পক্ষের সম্মতিতে এই সময়সীমা আরও বাড়ানোর সুযোগ থাকবে।
সম্ভাব্য চুক্তিতে যেসব বিষয় থাকতে পারে বলে জানা গেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—
• যুদ্ধবিরতির সময় হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে এবং সেখানে কোনো টোল আরোপ করা হবে না। পাশাপাশি প্রণালি থেকে মাইন অপসারণ করবে ইরান।
• যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিতে পারে এবং তেহরানের তেল রপ্তানির ওপর থাকা কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে পারে।
• ইরান প্রতিশ্রুতি দেবে যে তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করবে না। একই সঙ্গে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি সীমিত করা এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত অপসারণ নিয়ে আলোচনা চলবে।
• যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অবরুদ্ধ কিছু তহবিলে প্রবেশাধিকার দেওয়ার বিষয়েও বিবেচনা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
• ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির সময় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকবে। তবে চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হলে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
তবে নিউইয়র্ক টাইমস ইরানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে সরাসরি কিছু উল্লেখ নেই।
তাদের দাবি, আগামী ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে সব পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, সম্ভাব্য এই সমঝোতা স্মারক মূলত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পথ তৈরি করবে এবং শেষ পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ সৃষ্টি করবে।

