পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই যুদ্ধের ফলে আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষের দুর্দশা চরম আকার ধারণ করার আশঙ্কা রয়েছে।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এক সংবাদ সম্মেলনে সতর্ক করে বলেছেন যে, বছরের পর বছর ধরে চলা যুদ্ধ, দারিদ্র্য এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আফগানিস্তানের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা এরই মধ্যে মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
এ সময় তিনি কিছু উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরেন, বর্তমানে আফগানিস্তানে প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ নারী, পুরুষ ও শিশুর জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। চলমান সংঘাত যদি আরও দীর্ঘায়িত বা তীব্র হয়, তবে এই সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাবে।
জাতিসংঘ এবং তাদের অংশীদাররা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রতিকূল পরিবেশেও ত্রাণ কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা করছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানী কাবুলসহ প্রধান শহরগুলোতে পাকিস্তানের ভয়াবহ বিমান হামলার পর সুর কিছুটা নরম করেছে তালেবান সরকার। প্রায় ২৭৪ জন নিহতের ঘটনার পর তারা এখন আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছে।
তালেবান সরকারের মুখপাত্র মৌলভি জাবিহউল্লাহ মুজাহিদ এক বিবৃতিতে বলেন, পাকিস্তানই এই যুদ্ধের সূচনা করেছে। আফগানিস্তান কেবল তার সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড রক্ষায় আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করেছে। আমরা শান্তি চাই। তবে পাকিস্তান যদি আক্রমণ অব্যাহত রাখে, তবে আমরাও পিছু হটব না।
যদিও তালেবান পক্ষ থেকে আলোচনার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, তবু সীমান্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত কোনো কূটনৈতিক সমাধান না এলে এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন