জ্বালানি সংকট ও প্রযুক্তিগত পিছিয়ে থাকার কারণে অস্ট্রেলিয়া ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ছে- এমনটাই সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের ধীর নীতি, অপর্যাপ্ত বিনিয়োগ এবং পরিকল্পনার ঘাটতির ফলেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করায় অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি নির্ভরতার দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দেশটিতে জ্বালানির দাম লিটারপ্রতি ৩ ডলারেরও বেশি ছাড়িয়েছে, সরবরাহ কমছে এবং এক মাসেরও কম মজুত থাকার খবর উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি সিডনির অস্ট্রেলিয়া-চায়না রিলেশনস ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. মেরিনা ইউ ঝাং এবং ইউএনএসডব্লিউ এনার্জি ইনস্টিটিউট-এর সিইও ড্যানি আলেকজান্ডার বলেন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও সরকারি নীতির মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে।
ড. ঝাং বলেন, প্রযুক্তি কয়েক মাসে এগিয়ে যায়, কিন্তু নীতিগত পরিবর্তনে লাগে বছর। এই ব্যবধানই এখন জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ এরই মধ্যে জাতীয় মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। সেখানে কারপুলিং, বাসা থেকে কাজ এবং গণপরিবহনে ভর্তুকির মতো পদক্ষেপ বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী এমন পদক্ষেপের প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত চলতে থাকলে, অস্ট্রেলিয়ায় যেকোনো সময় জরুরি অবস্থা জারি হতে পারে।
অন্যদিকে, পলিন হ্যানসন জ্বালানি রেশনিং চালুর দাবি জানিয়েছেন, যদিও সরকার এখনো তা প্রয়োজনীয় মনে করছে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিকল্প জ্বালানিতে ধীরগতির রূপান্তরের ফলে অস্ট্রেলিয়া আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
ড. ঝাং উল্লেখ করেন, চীনের উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করাও একটি নিরাপত্তা ইস্যু। চীন বর্তমানে বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) প্রযুক্তিতে বিশ্বনেতা, তবে এই নির্ভরতা কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন