পাকিস্তানের ইসলামাবাদ হাইকোর্ট এক বিচারপতিকে তার পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে। বিষয়টি নজিরবিহীন, কারণ পাঁচ বছর ধরে বিচারিক দায়িত্ব পালনকারী এই বিচারপতির ডিগ্রি ভুয়া ছিল। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিচারপতি তারিক মাহমুদ জাহাঙ্গিরী জালিয়াতি করে আইন শাস্ত্রে পড়াশোনা করেছেন এবং ভুয়া ডিগ্রিধারী হয়ে আদালতে রায় দিয়েছেন।
গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ইসলামাবাদ হাইকোর্ট ১১৬ পৃষ্ঠার একটি রায়ে জানায়, বিচারপতি জাহাঙ্গীরীর নিয়োগ প্রক্রিয়া অবৈধ। আদালত তার পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে এবং তদন্ত শুরু করেছে।
বিচারপতি জাহাঙ্গীরী ২০২০ সালের ডিসেম্বরে ইসলামাবাদ হাইকোর্টে নিযুক্ত হন। কিন্তু গত বছরের মধ্যে তার ভুয়া ডিগ্রির বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পরই সেপ্টেম্বরে তাকে বিচারকের দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়।
আদালতের সিদ্ধান্তে বলা হয়, করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দেখা গেছে, জাহাঙ্গীরীর আইন বিষয়ে ডিগ্রিগুলো সঠিক নয়। তার বিরুদ্ধে ভুয়া পরিচয়পত্র তৈরির এবং শাস্তি এড়ানোর অভিযোগও রয়েছে।
যদিও জাহাঙ্গীরী দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে একের পর এক মামলা শুনেছেন এবং রায় দিয়েছেন, আদালত সেই মামলাগুলোর ভবিষ্যত সম্পর্কিত কোনো নির্দেশ দেননি।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৮ সালে জাহাঙ্গীরী ভুয়া এনরোলমেন্ট নম্বর ব্যবহার করে আইন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। পরীক্ষায় ধরা পড়ায় তিন বছরের জন্য নিষিদ্ধ হন। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তিনি আবারও অসৎ উপায় অবলম্বন করেন। পরবর্তীতে অন্য একজন শিক্ষার্থীর এনরোলমেন্ট নম্বর ব্যবহার করে পরীক্ষায় বসেন। ইসলামীয়া কলেজের অধ্যক্ষ আদালতকে জানিয়েছিলেন, জাহাঙ্গীরীকে কখনো ভর্তি নেওয়া হয়নি।
আদালত উল্লেখ করেছে, মূল নথি, ডিগ্রি এবং লিখিত জবাব দেওয়ার জন্য জাহাঙ্গীরীকে একাধিক সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবুও তিনি তা দিতে ব্যর্থ হন।

