ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ইমরান খান ‘ডেথ সেলে’ আছেন, অভিযোগ ছেলেদের

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫, ০৮:৪৪ পিএম
ইয়ালদা হাকিমের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের সাবেক ইমরান খানের ছেলে, কাসিম খান (বামে) এবং সুলেমান খান। ছবি- সংগৃহীত

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রধান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দুই ছেলে কাসিম ও সুলেমান খান বলেছেন, তারা জানুয়ারিতে পাকিস্তান যাত্রার পরিকল্পনা করছেন। তবে তারা উদ্বিগ্ন যে কারাগারে রাখা অবস্থায় ইমরানের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাওয়া কঠিন হতে পারে।

স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাসিম জানান, ‘তারা এরই মধ্যে ভিসার জন্য আবেদন করেছেন। আমরা আশা করছি জানুয়ারিতে যেতে পারব, যদি কর্তৃপক্ষ আমাদের অনুমতি দেয়।’

কাসিম ও সুলেমান উল্লেখ করেছেন, ইমরানকে বর্তমানে যে কারাগারে রাখা হয়েছে সেটি মানবাধিকারের মানদণ্ড পূরণ করছে না।

সুলেমান বলেন, ‘আমার বাবাকে যে সেলটিতে রাখা হয়েছে তা ‘মৃত্যু সেল’ হিসেবে পরিচিত। সেখানে আলো কম, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকে এবং নোংরা পানি থাকে।’

এই সাক্ষাৎকারে দুই ভাই আরও জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইমরানের মৃত্যুর গুজব তাদের জন্য ‘অবিশ্বাস্য চাপের’ বিষয়।

কাসিম বলেন, ‘এটা আমাদের স্বাভাবিক জীবনের রুটিন থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে, আমরা খুব অসহায় বোধ করছি।’

ইমরানের ছেলে কাসিম আরও বলেন, ‘আমার বাবা রাজনৈতিক আপস করবেন না। তার জীবন দেশের সেবা করার উদ্দেশ্যে নিবেদিত। তিনি যদি ইংল্যান্ডে থাকতেন, তা তার জন্য হতাশাজনক হতো।’

উল্লেখ্য, ইমরানের পরিবারের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ আদিয়ালা কারাগারে তাদের বাবার সঙ্গে দেখা করতে না দেওয়ার সময় বিক্ষোভ দমন করতে রাসায়নিক মিশ্রিত জল ব্যবহার করেছে।

জাতিসংঘের একজন বিশেষ দূতও সতর্ক করে জানিয়েছেন, ইমরানকে অমানবিক বা অবমাননাকর পরিস্থিতিতে রাখা হতে পারে।

ইমরানের ছেলে কাসিম আরও বলেন, তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে চেয়েছেন, যাতে তাদের বাবার মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করা হয় এবং তাকে স্বাধীন পর্যবেক্ষণসহ দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ সরকারের মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি দাবি করেছেন, ইমরানকে ৮৬০ দিনের বেশি সময় ধরে কারাবন্দি রাখা হলেও তিনি নিয়মিত পরিবার, আইনজীবী এবং বোনদের সঙ্গে দেখা করেছেন।

তিনি আরও জানান, এটি নির্জন কারাবাসের মতো নয়।

জাইদি বলেন, ‘প্রত্যেক সাক্ষাৎকারে রাজনৈতিক বিষয় এড়িয়ে চলা হয়। তবে নিরাপত্তার কারণে বৈঠকগুলি স্থগিত করা হয়েছে।’

কাসিম ও সুলেমান জানিয়েছেন, তারা জানুয়ারিতে ব্রাসেলস বা জেনেভায় গিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ইমরানের পরিস্থিতি তুলে ধরবেন এবং আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করবেন।