ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

রাজপথে আমাদের দেখতে পাবেন, ইতিহাস বলবে কারা বিশ্বাসঘাতক : মাদুরোর ছেলে

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৫, ২০২৬, ০৯:১১ এএম
মাদুরোপুত্র গুয়েরা। ছবি : সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় মুখ খুলেছেন তার ছেলে নিকোলাস মাদুরো গুয়েরা। এক ভিডিওবার্তায় এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে রাজপথে থাকার কথা বলেছেন গুয়েরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ভিডিওতে গুয়েরা বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার রাজপথে আপনারা আমাদের দেখতে পাবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইতিহাস বলবে কারা বিশ্বাসঘাতক ছিল।’

ভেনেজুয়েলার রাজপথে আপনারা আমাদের দেখতে পাবেন। ইতিহাস বলবে, কারা বিশ্বাসঘাতক ছিল।

 নিকোলাস মাদুরো গুয়েরা

স্থানীয় সময় শনিবার (৩ জানুয়ারি) কারাকাস থেকে নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তুলে নিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। এখন মাদক-সংক্রান্ত অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে তাদের বিচার করার ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। স্থানীয় সময় সোমবার তাদের আদালতে তোলার কথা জানা গেছে।

মাদুরোপুত্র গুয়েরার বিরুদ্ধেও যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মাদক পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। ভেনেজুয়েলার পার্লামেন্ট সদস্য তিনি। ৩৫ বছর বয়সী গুয়েরা ‘নিকোলাসিতো’ বা ‘রাজপুত্র’ নামেও পরিচিত বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মামলার নথি অনুযায়ী, নিকোলা মাদুরো ২০১৩ সালে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর একমাত্র ছেলে নিকোলাস মাদুরো গুয়েরাকে ‘প্রেসিডেন্সির স্পেশাল ইন্সপেক্টর কোরের’ প্রধান নিয়োগ করেন।

চার বছর পর মাদুরো গুয়েরা ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল কনস্টিটিউয়েন্ট অ্যাসেমব্লির সদস্য নির্বাচিত হন। এটি ছিল মূলত একটি নির্বাচিত অস্থায়ী সংসদ, যার দায়িত্ব ছিল সংবিধান পুনর্লিখন করা। এরপর ২০২১ সালে ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেমব্লির (পার্লামেন্ট) সদস্য নির্বাচিত হন মাদুরো গুয়েরা। তিনি এখনো এ পদে আছেন।

মাদুরো গুয়েরা ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব দ্য আর্মড ফোর্সেসে অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। সরকারের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগে তিনি ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল সিস্টেম অব ইয়ুথ অ্যান্ড চিলড্রেনস অর্কেস্ট্রায় বাঁশি বাজানো শিখেছিলেন।

ব্যক্তিজীবনে মাদুরো গুয়েরা বিবাহিত। তার স্ত্রীর নাম গ্রিসেল। এই দম্পতির দুটি কন্যাসন্তান আছে বলে ভেনেজুয়েলার সংবাদমাধ্যম এল এস্টিমুলোর জানিয়েছে।

২০১৯ সালে মাদুরো গুয়েরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন। নিকোলা মাদুরোর ওপর চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র এ পদক্ষেপ নিয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, মাদুরোর ছেলে প্রোপাগান্ডা ও সেন্সরশিপে জড়িত। তিনি ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন খনি থেকে লাভ করেছেন। দেশটিতে মানবিক সহায়তা ঢুকতে না দেওয়ার জন্য সেনাবাহিনীর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে সহায়তা করারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছিল, শক্ত হাতে অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ভেনেজুয়েলার জনগণকে দমন করতে নিকোলাস মাদুরো তার ছেলেসহ অন্যান্য সহযোগীর ওপর নির্ভর করতেন।