ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভে ৪ জন গ্রেপ্তার

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৮, ২০২৫, ০৭:৫৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভে ‘ইন্তিফাদা’ শব্দ ব্যবহারকে কেন্দ্র করে প্রথমবারের মতো কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার রাতে ওয়েস্টমিনস্টারে বিচার মন্ত্রণালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত এক প্রো-প্যালেস্টাইন বিক্ষোভ থেকে চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, বিক্ষোভ চলাকালে তারা ‘ইন্তিফাদা’ আহ্বানসংক্রান্ত স্লোগান দেন, যা সহিংসতায় উসকানি দিতে পারে। এই গ্রেপ্তারগুলো এমন একসময় হয়েছে, যখন লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ ও গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ যৌথভাবে ঘোষণা দেয়—ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভে কথিত ইহুদিবিদ্বেষ ঠেকাতে তারা আরও কঠোর হবে।

এই বিক্ষোভটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল আট জন বন্দি অনশনকারীর সমর্থনে, যাদের জীবন ঝুঁকিতে রয়েছে বলে আয়োজকদের দাবি। ওই অনশনকারীদের ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’ গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের সেফগার্ডিং মন্ত্রী জেস ফিলিপস পুলিশের পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, ‘ইন্তিফাদা’ আহ্বান সহিংসতার উসকানি ছাড়া আর কিছু হতে পারে না এবং এর ভয়াবহ পরিণতি রয়েছে।

তবে ফিলিস্তিন সংহতি আন্দোলনের নেতা বেন জামাল এ বক্তব্যের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, আরবি শব্দ ‘ইন্তিফাদা’র অর্থ হলো অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে ‘ঝাঁকুনি দিয়ে মুক্ত হওয়া’ বা গণঅভ্যুত্থান। ফিলিস্তিনি প্রেক্ষাপটে এটি মূলত সামরিক দখলদারত্ব ও অবৈধ বসতি স্থাপনের বিরুদ্ধে নাগরিক প্রতিরোধকে বোঝায়।

তিনি আরও বলেন, অস্ট্রেলিয়ার বন্ডি বিচে ঘটে যাওয়া বর্ণবাদী সহিংস ঘটনার ঘটনাকে অজুহাত বানিয়ে রাজনৈতিক মহলের একটি অংশ ফিলিস্তিনপন্থি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে ‘অবৈধ’ প্রমাণের চেষ্টা করছে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে অস্ট্রেলিয়ার বন্ডি বিচে একটি ইহুদি উৎসবে হামলায় ১৫ জন নিহত হয়। এ ঘটনার পর থেকেই পশ্চিমা দেশগুলোতে ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভের ওপর নজরদারি ও দমনমূলক পদক্ষেপ বাড়ানো হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার প্রেক্ষাপটে কিছু শব্দ ও স্লোগানের অর্থ নতুনভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র : আল জাজিরা