ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ইরান যুদ্ধ

যুক্তরাজ্যে গ্যাস মজুদ আছে মাত্র দুই দিনের

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: মার্চ ৮, ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম
হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাঙ্কার। ছবি : সংগৃহীত

চলমান ইরান যুদ্ধের উত্তাপ বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে তীব্র জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে যুক্তরাজ্যজুড়ে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বর্তমানে যে পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদ রয়েছে, তা দিয়ে মাত্র দুই দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। এই পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে এক ধরণের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ন্যাশনাল গ্যাসের প্রকাশিত নতুন তথ্য অনুযায়ী, গত বছর যুক্তরাজ্যের গ্যাসের মজুদ ছিল ১৮,০০০ গিগাওয়াট আওয়ার (জিডাব্লিউএইচ), যা বর্তমানে কমে ৬,৭০০ গিগাওয়াট আওয়ারে নেমে এসেছে। এই পরিমাণ গ্যাস দেশটির মাত্র দেড় দিনের চাহিদার সমান। তবে একই পরিমাণ গ্যাস তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) হিসেবে সংরক্ষিত আছে। তুলনায় ইউরোপের দেশগুলো জ্বালানি সরবরাহের অস্থিরতা সামাল দেওয়ার জন্য অনেক বেশি প্রস্তুত; তাদের কাছে কয়েক সপ্তাহের গ্যাস মজুদ রয়েছে।

যুক্তরাজ্যের এই দুর্বল পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। দেশটির কোনো উপায় নেই জেনেই ব্যবসায়ীরা ইউরোপীয় প্রতিযোগীদের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করছেন। ফলে বর্তমানে যুক্তরাজ্য ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মূল্যে পাইকারি গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছে।

জ্বালানি বাজারে এই অস্থিরতার অন্যতম কারণ হলো হরমুজ প্রণালীর প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়া, যে পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেল পরিবহন করা হয়। এছাড়া কিছু অঞ্চলে উৎপাদন বন্ধ থাকায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।

ইরানি বোমাবর্ষণের শিকার হওয়ার পর, কাতার এই সপ্তাহের শুরুতে বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্র 'রাস লাফান'-এ উৎপাদন স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে।এ বিষয়ে কমোডিটি ডেটা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান 'আর্গাস মিডিয়া'-এর গ্যাস প্রাইসিং বিভাগের প্রধান নাতাশা ফিল্ডিং বলেন, ‘ইউরোপের প্রায় যেকোনো জায়গার তুলনায় যুক্তরাজ্যে গ্যাসের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে।’

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ চেইন ব্যাহত হওয়ায় ব্রিটেনের মতো দেশগুলো সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পর্যাপ্ত গ্যাসের মজুদ না থাকায় এবং নতুন সরবরাহের অনিশ্চয়তায় আগামী দিনগুলোতে বড় ধরনের সংকটের মুখোমুখি হতে পারে দেশটি।