বহু আলোচিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের তদন্ত সংক্রান্ত কয়েক হাজার পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। শুক্রবার প্রকাশিত এই নথিগুলো ইতিমধ্যে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ডেমোক্র্যাট নেতারা অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন আইন মেনে পুরো তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, এটি ইতিহাসের সবচেয়ে স্বচ্ছ প্রশাসন এবং তারা ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
নথিতে দেখা গেছে এপস্টেইনের সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছবি। এর মধ্যে রয়েছেন তারকা ও উদ্যোক্তা মাইকেল জ্যাকসন, ক্রিস টাকার, ডায়ানা রস এবং ভার্জিন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা রিচার্ড ব্র্যানসন।
রাজনৈতিক ও রাজকীয় ব্যক্তিত্বের মধ্যে রয়েছে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, যাকে এপস্টিনের সহযোগী ঘিসলেন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে সুইমিং পুলে দেখা গেছে। এছাড়া ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রাক্তন সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রুও নথিতে স্পষ্টভাবে রয়েছেন।
নথিতে এপস্টেইনের কম্পিউটার ড্রাইভ এবং রহস্যময় কিছু ছবি প্রকাশ করা হয়েছে, যদিও সেগুলোর বিস্তারিত এখনও আড়ালে রাখা হয়েছে।
গত ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ‘এপস্টেইন ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’ অনুযায়ী সমস্ত অ-শ্রেণীবদ্ধ নথি প্রকাশের বাধ্যবাধকতা ছিল। তবে সমালোচকরা বলছেন, প্রকাশিত নথিতে ১,২০০ জনের বেশি অভিযুক্ত বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম গোপন রাখা হয়েছে, যা তদন্তের স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
কংগ্রেসম্যান রো খান্না এবং সেনেটর চাক শুমার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, তথ্য গোপন করার প্রক্রিয়া আইনের লঙ্ঘন। এমনকি রিপাবলিকান থমাস ম্যাসিওও বলেছেন, নথি প্রকাশের প্রক্রিয়া যথাযথ হয়নি।
এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে ডোনাল্ড ট্রাম্প নথি প্রকাশে অনীহা দেখালেও গত নভেম্বর মাসে তিনি হঠাৎ অবস্থান পরিবর্তন করেন এবং কংগ্রেসে আইন পাস হয়।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন