শক্তিশালী শীতকালীন তুষারঝড় ‘ফার্ন’ -এর তাণ্ডবে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্রের এভিয়েশন খাত। তীব্র তুষারপাত ও বরফে ঢেকে গেছে রানওয়ে। লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে দেশটির অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা।
এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বাতিল হওয়া ফ্লাইটের সংখ্যা ১০ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। ঝড়ের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৮টি অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে তুষারঝড়টি তীব্র আকার ধারণ করে। শুক্রবার রাত থেকেই টেক্সাস, ওকলাহোমা ও কানসাসে ব্যাপক তুষারপাত শুরু হয়। এতে বরফ জমে অনেক বিমানবন্দরের রানওয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
ঝড়টি বর্তমানে দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রধান বিমানবন্দরগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দক্ষিণাঞ্চলে ডালাস–ফোর্ট ওয়ার্থ (DFW) ও আটলান্টা (ATL), উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (JFK), লাগার্ডিয়া (LGA), নিউয়ার্ক (EWR), বোস্টন (BOS) এবং ওয়াশিংটনের ডালেস (IAD) বিমানবন্দরগুলোতে ব্যাপক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। মিড-ওয়েস্ট অঞ্চলে শিকাগো (ORD), ন্যাশভিল ও শার্লট বিমানবন্দরেও একই চিত্র দেখা গেছে।
বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে আমেরিকান এয়ারলাইনস। সংস্থাটি একাই ৩ হাজার ৫০০–এর বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে। এ ছাড়া ইউনাইটেড, সাউথওয়েস্ট ও ডেল্টা এয়ারলাইনসও হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) ও আবহাওয়া দপ্তরের তথ্যমতে, সোমবার (২৬ জানুয়ারি) পর্যন্ত ঝড়টির প্রভাব অব্যাহত থাকতে পারে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) থেকে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হলেও বিমান ও ক্রুদের অবস্থানগত জটিলতার কারণে বুধবার পর্যন্ত ফ্লাইট সিডিউলে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে যাত্রীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ভ্রমণকারীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করতে বলা হয়েছে। অধিকাংশ এয়ারলাইন বর্তমানে কোনো অতিরিক্ত চার্জ ছাড়াই টিকিট রি-বুকিংয়ের সুযোগ দিচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তার প্রশাসন রাজ্য ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করছে এবং ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি ‘সহায়তা দেওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে’।
এই ঝড়টি নিউ ইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানির জন্য প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ, যিনি মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। শুক্রবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনওয়াইওয়ান-কে তিনি বলেন, রবিবার প্রত্যাশিত ভারী তুষারপাত মোকাবিলায় শহরের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ‘দেশের বৃহত্তম তুষার-প্রতিরোধী বাহিনীতে’ রূপান্তরিত করা হবে।
সূত্র : আল জাজিরা



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন