× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

বিশ্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম

সরিয়ে ফেলা হলো এপস্টেইন-কাণ্ডের হাজার হাজার ফাইল

বিশ্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিন সংক্রান্ত হাজার হাজার নথি তাদের ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নিয়েছে মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস)। প্রকাশিত নথিতে ভুক্তভোগীদের পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীদের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, গত শুক্রবার প্রকাশিত নথিতে তথ্য গোপন রাখার ক্ষেত্রে বা ‘রিডাকশন’-এ গুরুতর ত্রুটি ছিল। এতে প্রায় ১০০ জন ভুক্তভোগীর জীবন ‘উলটপালট’ হয়ে গেছে। নথিগুলোতে ইমেইল ঠিকানা, ব্যক্তিগত তথ্য এমনকি নগ্ন ছবিও ছিল, যার মাধ্যমে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

এক বিবৃতিতে ভুক্তভোগীরা এই ঘটনাকে ‘চরম আপত্তিকর’ অভিহিত করে জানান, এভাবে তাঁদের নাম প্রকাশ, যাচাই-বাছাই এবং নতুন করে মানসিক যন্ত্রণার মুখে ফেলা উচিত হয়নি।

বিচার বিভাগ জানিয়েছে, যেসব নথি নিয়ে অভিযোগ উঠেছে সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভুলগুলো ‘প্রযুক্তিগত’ বা ‘মনুষ্য’ ত্রুটির কারণে হয়েছে বলে দাবি তাদের। সোমবার ফেডারেল বিচারকের কাছে জমা দেওয়া এক চিঠিতে বিভাগটি জানায়, ভুক্তভোগী বা তাঁদের আইনজীবীদের অনুরোধে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত চিহ্নিত সব নথি পরবর্তী সংশোধনের জন্য সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বিভাগটি আরও জানায়, নতুন অনুরোধগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং আর কোনো নথি সরানো বা সম্পাদনার প্রয়োজন আছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। নিজেদের উদ্যোগে শনাক্ত করা ‘উল্লেখযোগ্যসংখ্যক’ নথিও সরানো হয়েছে বলে জানানো হয়।

মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষের অনুমোদনের পর বিচার বিভাগ এই নথিগুলো প্রকাশ করতে বাধ্য ছিল। তবে শর্ত ছিল যে, ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করা যায়—এমন সব তথ্য অবশ্যই মুছে ফেলতে বা ঢেকে দিতে (Redact) হবে।

শুক্রবার ভুক্তভোগীদের পক্ষে দুই আইনজীবী নিউইয়র্কের একজন ফেডারেল বিচারকের কাছে ওয়েবসাইটটি বন্ধের আবেদন জানান। তাঁরা বলেন, এটি এক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ভুক্তভোগীদের গোপনীয়তার সবচেয়ে ভয়াবহ লঙ্ঘন।

দুই আইনজীবী ব্রিটানি হেন্ডারসন ও ব্র্যাড এডওয়ার্ডস জানান, বিচার বিভাগ হাজার হাজার ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের নাম ও ব্যক্তিগত তথ্য মুছতে ব্যর্থ হওয়ায় এক ‘জরুরি’ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যা তাৎক্ষণিক বিচারিক হস্তক্ষেপ দাবি করে।

বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী ওই চিঠিতে নিজস্ব মন্তব্য দিয়েছেন। একজন একে ‘জীবননাশী’ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। আরেক জানান, তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের তথ্য ফাঁস হওয়ায় তিনি প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন।

গত মঙ্গলবার বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভুক্তভোগী অ্যানি ফারমার বলেন, ‘বিচার বিভাগ ভুক্তভোগীদের পরিচয় যেভাবে উন্মুক্ত করে দিয়ে ক্ষতি করেছে, তাতে এই নথির মাধ্যমে বেরিয়ে আসা নতুন তথ্যের ওপর নজর দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।’

আরেক ভুক্তভোগী লিসা ফিলিপস বলেন, প্রকাশের ফলাফল নিয়ে অনেকেই ‘খুবই অসন্তুষ্ট’। বিচার বিভাগ আমাদের তিনটি শর্তই লঙ্ঘন করেছে—এক, অনেক নথিই এখনো প্রকাশ হয়নি। দুই, প্রকাশের নির্ধারিত তারিখ অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে। তিন, ডিওজে বহু ভুক্তভোগীর নাম প্রকাশ করেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘মনে হচ্ছে আমাদের সঙ্গে গেম খেলা হচ্ছে, কিন্তু আমরা লড়াই থামাব না।’

এপস্টেইনের বহু ভুক্তভোগীর পক্ষে লড়েছেন নারীবাদী আইনজীবী গ্লোরিয়া অলরেড। তিনি বিবিসিকে বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের নামের ওপর কেবল একটি দাগ টেনে দেওয়া হয়েছে যা থেকে সহজেই নাম পড়া যাচ্ছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে এমন সব ভুক্তভোগীর ছবি প্রকাশ করা হয়েছে যাঁরা কখনো প্রকাশ্যে সাক্ষাৎকার দেননি, কখনো নামও প্রকাশ করেননি। ”

ডিওজের এক মুখপাত্র বলেন, তারা ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন। নির্দোষদের রক্ষায় প্রকাশিত লাখো পাতার মধ্যে হাজার হাজার ভুক্তভোগীর নাম সরানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সমস্যা সমাধানে বিভাগটি ‘দিনরাত কাজ করছে’। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত পাতার মাত্র ‘০.১ শতাংশে’ এমন তথ্য পাওয়া গেছে, যা ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করতে পারে।

উল্লেখ্য, গত বছর মার্কিন কংগ্রেসের চাপে পাস হওয়া একটি আইনের আওতায় এপস্টিন সংক্রান্ত সব নথি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর ভিত্তিতে গত শুক্রবার ডিওজে প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠা নথি, ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি এবং ২ হাজার ভিডিও প্রকাশ করে। তবে নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে প্রায় ছয় সপ্তাহ পর এই প্রকাশনা আসে।

২০১৯ সালের ১০ আগস্ট যৌন পাচারের অভিযোগে বিচারের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় নিউইয়র্কের একটি কারাগারে জেফরি এপস্টিনের মৃত্যু হয়।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!