× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬, ১২:৩৪ এএম

আজও কর্মবিরতি ঘোষণা

এনসিটি ইজারা ইস্যুতে অচল চট্টগ্রাম বন্দর

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬, ১২:৩৪ এএম

এনসিটি ইজারা ইস্যুতে  অচল চট্টগ্রাম বন্দর

জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ডাকা ধর্মঘটে গতকাল রোববার দ্বিতীয় দিনের মতো চট্টগ্রাম বন্দরে সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রমে অচলাবস্থা বিরাজ করেছে। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে ধর্মঘট চলাকালে বন্দরে কনটেইনার ও পণ্য পরিবহনকারী যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ ছিল। এ সময় বিভিন্ন সেবাডেস্কে কর্মবিরতির নোটিশ ঝুলিয়ে দেন শ্রমিক-কর্মচারীরা।

তবে বন্দর এলাকায় পুলিশের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মিছিল-সমাবেশসহ যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থান নেয়। শ্রমিক দলের নেতারা অভিযোগ করেন, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ স্বতঃস্ফূর্ত ধর্মঘট বানচালে দমনপীড়ন চালায়। এ অবস্থায় রোববার সকাল থেকে চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) ধর্মঘটের সমর্থনে চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় কালোপতাকা মিছিলের কর্মসূচি দিয়েছিল। তবে পুলিশের নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা সেই কর্মসূচি স্থগিত করে। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান আন্দোলনে সর্বাত্মক সমর্থন ও একাত্মতা প্রকাশ করেছে। জেলা সিপিবির সভাপতি অধ্যাপক অশোক সাহা ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর সরকারকে শ্রমিক-কর্মচারীসহ জনতার দাবি মেনে ‘দেশবিরোধী চুক্তির’ প্রক্রিয়া থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শ্রমিক-কর্মচারীদের হয়রানি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।

স্কপ নেতা ইফতেখার কামাল খান বলেন, কালোপতাকা মিছিলের জন্য আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু গত রাতে সিএমপি মিছিল-মিটিংয়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন। এজন্য কোনো ধরনের কর্মসূচি পালন না করতে অনুরোধ করা হয়। আমরা আপাতত কর্মসূচি স্থগিত করেছি।

এনসিটি আরব-আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে গত শনিবারও সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ ছিল। রোববার দ্বিতীয় দিনে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী সাবেক সিবিএ অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধের পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রমও বন্ধের ডাক দেয়।

জানা গেছে, সকাল ৮টা থেকে ঘোষিত কর্মসূচি শুরু হয়। তবে বন্দর ভবনে প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল ছিল। অবশ্য কর্মচারীদের অধিকাংশই অফিসে হাজিরা দিলেও দায়িত্ব পালন থেকে বিরত ছিলেন। এ ছাড়া বন্দরের কর্মচারী ও বন্দরে নিয়োজিত বেসরকারি শ্রমিকেরা কেউ কাজে যোগ দেননি। এর ফলে বন্দরের তিনটি টার্মিনাল জিসিবি, সিসিটি ও এনসিটিতে অপারেশাল কার্যক্রম অনেকটাই বন্ধ ছিল। তিন টার্মিনালে জাহাজ থেকে কনটেইনার উঠানো-নামানোর কার্যক্রমে প্রায় অচলাবস্থা তৈরি হয়। কনটেইনার টার্মিনালগুলোতে যন্ত্রপাতির অপারেটররাও কাজে যোগ দেননি।

চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খোকন বলেন, শ্রমিক-কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মবিরতি পালন করছেন। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ধর্মঘট ঠেকাতে হয়রানি শুরু করে। পুলিশও দমনপীড়নের আশ্রয় নিয়েছে। হয়রানি বন্ধ না করলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাব।

এর আগে গত শনিবার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কর্মবিরতি পালন করায় চার কর্মচারীকে তাৎক্ষণিকভাবে বদলি করা হয়। বন্দর অচলের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে একটি কমিটি গঠন করে বন্দর প্রশাসন। এছাড়া শনিবার মধ্যরাতে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে সিএমপি কমিশনার বন্দর এলাকায় সভা-সমাবেশ, মিছিল, পথসভাসহ যেকোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি এক মাসের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।

এদিকে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ আজ সোমবার পুনরায় সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কর্মবিরতি ঘোষণা করেছে। সব শ্রমিক সংগঠন ও বন্দর ব্যবহারকারীদের এই আন্দোলনে সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছে পরিষদ। রোববার বিকেলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবীর।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৩১ জানুয়ারি ও ১ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন করে রাখা ও চুক্তি করার উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ঘোষিত সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দুই দিনের ১৬ ঘণ্টার কর্মবিরতি সফল হয়েছে। উক্ত কর্মসূচি সফল করায় চট্টগ্রাম বন্দরের সর্বস্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারী, স্কপ ও বন্দর রক্ষা পরিষদকে অভিনন্দন।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবীর ও ইব্রাহিম খোকন বলেন, আমরা অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বিগত, ২ দিনের আন্দোলন-সংগ্রামের পরও কর্তৃপক্ষ বা সরকার আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি। অধিকন্তু কর্তৃপক্ষ আন্দোলনরত শ্রমিক নেতাদের চট্টগ্রাম থেকে কেরাণীগঞ্জের পানগাঁও আইসিটিতে ট্রান্সফার ও স্ট্যান্ড রিলিজ করে যাচ্ছেন। এতে করে আন্দোলন আরও তীব্র থেকে তীব্রতর হবে।

দুই সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন ও হুমায়ুন কবীর আরও বলেন, কর্তৃপক্ষ ও সরকার আমাদের সঙ্গে আলোচনা করে, এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ালে আমাদের হয়তো আর কোনো প্রোগ্রামে যেতে হতো না। কিন্তু কর্তৃপক্ষ ও সরকার তা না করে আমাদের আন্দোলনে যেতে বাধ্য করছে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!