অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) চারজন কমিশনার ও একজন চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তাদের নাম সবাই জানতে পারবেন।’ গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) কার্যালয়ে আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬-২৭ : প্রত্যাশা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এ কথা জানান।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন ও বাংলাদেশ বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল। ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর বিএনপির নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়। এরপর আর্থিক খাতের অন্যতম নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকে নতুন গভর্নর নিয়োগ দেয় সরকার। তবে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নেতৃত্বে কোনো পরিবর্তন আনেনি সরকার। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগ দেওয়া কমিশনের নেতৃত্বে চলছে সংস্থাটি। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিএসইসির নেতৃত্বে পরিবর্তনের দাবি করে আসছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীসহ বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এমনকি গত কয়েক মাসে একাধিক দফায় বিএসইসির নেতৃত্ব বদলেরও নানা গুজব ছড়ায় বাজারে। এমন পরিস্থিতিতে বিএসইসির নেতৃত্ব বদলের বিষয়ে আজ ইআরএফের সেমিনারে আনুষ্ঠানিক সময়সূচির ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী।
সেমিনারে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএসইসিতে এবার সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে ও পেশাজীবীদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যাঁরা পুঁজিবাজার বোঝেন। চারজন কমিশনার ও একজন চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে। তাঁদের হাত ধরে শেয়ারবাজারে বড় পরিবর্তন (টার্ন অ্যারাউন্ড) আসবে।
এ সময় অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, “আইন-কানুন পরিবর্তনের ফলে অনেক ভালো কোম্পানি এখন শেয়ারবাজারে আসতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। অনেক বড় কোম্পানি এখন আমাকে বলছে, ‘খসরু ভাই, আমরা এত দিন লিস্টেড হতে চাইনি। কারণ, আমরা কোনো ক্যাসিনোতে লিস্টেড হতে চাই না, স্টক এক্সচেঞ্জে লিস্টেড হতে চাই।’ ইনশা আল্লাহ এবার বাজারে বড় ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে পাবেন।” আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বিগত দিনে বারবার লুটপাট করে শেয়ারবাজারের অবস্থা খারাপ করা হয়েছে। বর্তমানে আমাদের বড় সংকট হলো, অনেকগুলো ব্যাংক আন্ডার-ক্যাপিটালাইজড (প্রয়োজনীয় পুঁজির অভাব) হয়ে পড়েছে। ব্যাংকগুলো থেকে টাকা লুটপাট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ব্যাংকের পাশাপাশি ডলারের অবমূল্যায়ন এবং বিভিন্ন লোকসানের কারণে দেশের অনেক বেসরকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও এখন পুঁজিসংকটে ভুগছে।’

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন