× UCB Sticker Card
রবিবার, ০৭ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ৭, ২০২৬, ০৫:২০ এএম

বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ফের আগুন

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ৭, ২০২৬, ০৫:২০ এএম

বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ফের আগুন

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ফের অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাত ১১টার ২৪ মিনিটে কার্গো ভিলেজের ৯ নম্বর গেটে আগুনের খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। শুরুতে শাহজালাল বিমানবন্দরের ফায়ার ইউনিট সেখানে আগুন নেভাতে কাজ শুরু করে। এরপর ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্সের ছয়টি ইউনিট এবং বিমান বাহিনীর ঘাঁটি একে খন্দকার থেকে গাড়ি গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আট মাস আগে  বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকা-ের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে আবার অগ্নিকা-ের ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অগ্নিকা-ের ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেনটেইন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহমুদুল হাসান রাত দেড়টার দিকে সাংবাদিকদের বলেন, রাত ১১টা ৩৮ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ১টা ৫ মিনিটে আগুন পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়। বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের যে অংশে কুরিয়ার সার্ভিসগুলো কাজ করে, সেখানে একটি কনটেইনারে আগুনের সূত্রপাত হয়। এর আগে গত অক্টোবরেও কুরিয়ার সার্ভিসের অংশেই (খাঁচায়) আগুন লেগেছিল। গত বছরের অক্টোবরে বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো কমপ্লেক্সে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট তখন আগুন নেভাতে কাজ করে। সেই আগুন পুরোপুরি নেভাতে ২৭ ঘণ্টা লেগে যায়।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগীব সামাদ বলেন, বিমানবন্দরের ৯ নম্বর গেটসংলগ্ন কুরিয়ার অপারেশনের ওখানে একটি কনটেইনারের ভেতরে এবং পাশে আগুনের সূত্রপাত হতে দেখা যায় রাত আনুমানিক ১১টা ২৫ মিনিটের দিকে। আগুনটা রিপোর্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের শাহজালাল বিমানবন্দরের ফায়ার ইউনিট, ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স এবং বিমান বাহিনীর ঘাঁটি এ কে খন্দকার থেকে গাড়ি এসে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

এদিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো এলাকায় আগুনের ঘটনা ‘সন্দেহজনক’ বলে মনে করছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় তদন্তকারীরা এরই মধ্যে নানা ধরনের ‘অসংগতি’ পেয়েছেন। এই অসংগতির বিষয়ে গতকাল শনিবার সকাল থেকেই কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠান ডিএইচএলের পাঁচ কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে। সেদিন আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি স্টেশনের ৩৭টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। পাশাপাশি যোগ দেন সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরাও। পরে এ ঘটনায় কয়েকশ কোটি টাকার মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দাবি তুলেছিলেন ব্যবসায়ীরা। সেই আগুনের পর শুক্রবার বিমানবন্দরের স্পর্শকাতর একই জায়গায় আবার অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত বছরের ১৮ অক্টোবর ডিএইচএল কুরিয়ারের শেড থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে একই শেড থেকে আবার আগুনের ঘটনা ঘটেছে। হ্যাঙ্গার-সংশ্লিষ্ট ডিএইচএলের শেডের যে স্থানে আগুনটি লাগে, সেটি ছিল সিসিটিভি ক্যামেরার আওতার বাইরে। আগুন লাগার সামনের অংশে ছিল একটি বৈদ্যুতিক পিলার। তার নিচে কিছু তারও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে ছিল। সেই তার থেকে শর্ট সার্কিট হলে অবশ্যই স্পার্ক হওয়ার কথা। কিন্তু ঘটনার সময় তা হয়নি। এমনকি শর্ট সার্কিট হলে বিদ্যুতের লাইটও বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু এগুলো কিছুই হয়নি।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলছেন, যে স্থানটিতে আগুন লেগেছে, তার কিছু দূরে সিগারেটের শেষের কয়েকটি অংশ পড়ে ছিল। তদন্তকারীদের প্রশ্ন ওই এলাকায় সিগারেট খাওয়াই নিষিদ্ধ। কিন্তু সিগারেট থেকে আগুন লাগলে তা থেকে ধোঁয়া বের হবে। পরে ধীরে ধীরে আগুন জ¦লবে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সেরকম কোনো ঘটনা ঘটেনি। হঠাৎ করেই দাউ দাউ করে আগুন জ¦লে ওঠে।

সিটিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা বলছেন, রাত তখন সাড়ে ১১টার কাছাকাছি। ঘটনাস্থলের কাছাকাছি স্থানে ডিএইচএলের একজন কর্মী উপস্থিত ছিলেন, যাকে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তারা দেখতে পেয়েছেন, তিনি মশারি টাঙিয়ে সেখানে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। একপর্যায়ে আগুন লাগার দেড় থেকে দুই মিনিট তিনি খুবই শান্তভাবে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বিষয়টি দেখছিলেন। পরে আগুন ছড়িয়ে পড়লে তিনি বিষয়টি সবাইকে জানানোর জন্য ফোন করেন। তদন্তকারীদের দাবি, রাতে ধূমপানের জন্য ওইদিকে কারও যাওয়ার কথা নয়। তাহলে আগুন কীভাবে লাগল এবং তা ছড়াল? তাদের দাবি, বিষয়টি খুবই রহস্যের। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে কারও দ্বারাই এটি সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আর এ কারণে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

খোঁজ জানা যায়, ডিএইচএলের ওই কনটেইনারে বিভিন্ন মালামাল ছিল। এর মধ্যে কাপড়ের রোল, পেপার আইটেম, রাবার আইটেম, প্লাস্টিক আইটেমসহ নানারকম পণ্য ছিল। এই পণ্যগুলো রোববার নিলাম হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই এমন ঘটনা নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। পরপর দুটি আগুনই ডিএইচএলের শেড থেকে হওয়ায় এই প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে যে, কেন সেখান থেকেই বারবার আগুনের উৎপত্তি হচ্ছে। তার মানে, অগ্নিনিরাপত্তায় তাদের চরম অবহেলা রয়েছে। নয়তো তারা ইচ্ছে করেই এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছেন। বিমানবন্দরের ভাবমূর্তি বহির্বিশ্বে ক্ষুণœ করতে সূক্ষ্মভাবে এই কাজগুলো করা হচ্ছে। শুক্রবারের আগুনটি বেবিচকের নিজস্ব ফায়ার কর্মী ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের দ্রুত প্রচেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গেছে। 

তদন্তকারীরা বলছেন, যেহেতু বিষয়টি রহস্যজনক মনে হচ্ছে, সে কারণে আমরা কয়েকজন ডিএইচএলের কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। তাদের দেওয়া তথ্য ঘটনাস্থলে গিয়ে মিলিয়ে দেখাও হচ্ছে। তবে দু-এক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেল কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম বলেন, ‘ঘটনাটি ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকেও তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের পরেই অগ্নিকা-ের কারণ সম্পর্কে বলা যাবে।’

এদিকে এ বিষয়ে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ বলেন, তদন্ত হচ্ছে। কোথা থেকে আগুনের সূত্রপাত, তা আমরা দেখছি। পাশাপাশি কেউ ইচ্ছা করে আগুন লাগিয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের মধ্যে রয়েছে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!