× UCB Sticker Card
রবিবার, ০৭ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ৭, ২০২৬, ০৬:০১ এএম

তথ্য উপদেষ্টার আশা

বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম  বাড়ায় বাজারে বেশি  প্রভাব পড়বে না 

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ৭, ২০২৬, ০৬:০১ এএম

বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম  বাড়ায় বাজারে বেশি  প্রভাব পড়বে না 

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি বাজারে খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) শুনানির মাধ্যমে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলেও সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রায় ৬৫ শতাংশ গ্রাহকের ক্ষেত্রে কোনো দাম বাড়বে না, বরং আগের দামই বহাল থাকবে। শুধু তাই নয় শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী গ্রাহকদের ক্ষেত্রে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। 

গতকাল শনিবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। এ সময় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন উপস্থিত ছিলেন।

বাজেটের পর এমনিতেই জিনিসপত্রের দাম বাড়ে। কিছুদিন পর বাজেট ঘোষণা। এই সময়ে জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো কতটা যৌক্তিক- জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, এটা (দাম বাড়ানো) কোনো না কোনো একটা জায়গায় করতে হবে। বাজেট আসলেই বা বাজেট হয়ে গেলেই পণ্যের মূল্য বেড়ে যায়। আপনারা অনেকেই বাজারে যান নিশ্চয়ই, আমিও বাজারে যাই। বাজারে জিনিসপত্রের দাম বিশেষ করে কাঁচাবাজার, সবজির মূল্য আমি দেখছি বেশ নিয়ন্ত্রণে আছে অনেক সময়ের তুলনায়। আমি এ কথাটা বলতে চাই যে, প্রবণতা আছে। এই প্রবণতার বদলও শুরু হয়েছে। এখন ভর্তুকি সংকটটা আপনি খুব ভালোভাবে নিশ্চয়ই জানেন। আমরা ভর্তুকিতে এত বেশি খরচ করে ফেলি, সরকারের কিন্তু আরও অনেক উন্নয়ন প্রকল্প আছে এবং সামাজিক নিরাপত্তার প্রকল্প আছে। আমরা স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে বড় ব্যয় করতে চাই, শিক্ষায় চাই এবং সামাজিক নিরাপত্তাতে- আপনারা কৃষক কার্ডের কথা জানেন, ফ্যামিলি কার্ডের কথা জানেন। তাই এগুলোর ব্যয় সংস্থান তো আসলে আমাদের করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, যদি কিছু মূল্য বাড়েও- এটা উচিত হবে না। সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই ব্যাপারে সতর্ক থাকবে। কিন্তু একই সঙ্গে আমি এই কথাটা বলতে চাই, সেটা হচ্ছে যদি কারো ওপরে চাপ পড়ে, ওই ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীটিকে কিন্তু আমরা রক্ষা করছি। বিদ্যুতের দাম তাদের জন্য বাড়াইনি, জ্বালানির দাম বাড়াইনি এবং তারা আবার সরকারের কাছ থেকে অনেকেই ভাতা পেতে শুরু করবেন। জাহেদ উর রহমান বলেন, এই বাজেটে একটা বড় শতাংশের মানুষ ফ্যামিলি কার্ড পেয়ে যাবেন। একই সঙ্গে অন্য যেসব নিরাপত্তা আছে- টিসিবির প্রকল্প বা অন্যান্য নিরাপত্তা জাল, সেগুলো বলবৎ থাকছে। সুতরাং এটা (বিদ্যুৎ ও তেলের দাম বৃদ্ধি) আশা করি খুব বড় প্রভাব ফেলবে না। এর মানে এই না যে, বাজারে যে অন্যায়ভাবে মূল্য বৃদ্ধি হয় সেটা নিয়ে সরকার কাজ করবে না। সরকার নিশ্চয়ই কাজ করবে।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জেনারেশন ইউনিটগুলো থেকে বেশি দামে বিদ্যুৎ কেনা ও অন্য নানা কারণে এখন ভর্তুকি ৫০ থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা। সেখানে হাত না দিয়ে বিএনপি সরকার ভর্তুকি কমানোর জন্য বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উপদেষ্টা বলেন, একেবারেই না। আমি একজন ডাক্তারের উদাহরণ দিই। যেমন ধরুন একজন মানুষ শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন। তো প্রথম কাজ হচ্ছে তাকে অক্সিজেন দেওয়া। মানে এখন শ্বাসকষ্টের কিন্তু অনেক কারণ আছে। কিছু কিছু দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা লাগবে। অ্যাজমায় শ্বাসকষ্ট হতে পারে, হৃদরোগে হতে পারে, কিডনি রোগ থেকে হতে পারে, নানা কারণে। ঠিক এই কাজটাই আসলে হচ্ছে। আপনি কি নিজেও মনে করেন যে ব্যবস্থাটা বিদ্যুতে দাঁড়িয়েছে, এটা তিন মাসে একেবারে পরিবর্তন বা উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন করা যাবে? যাবে না। আমি একটু আগেই বলেছি, আপনি যদি ব্যবস্থাটাকে ধরতে যান তাহলে এটাকে ব্যাহত করলে দেখা যাবে তার কয়েক গুণ বেশি আমার অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়ে গেছে। সেই কারণেই আমরা বলছি যে, আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি, কাজ করতে হবে। এ সিদ্ধান্তের ফলে নি¤œ ও নি¤œ-মধ্যবিত্ত গ্রাহকেরা সরাসরি উপকৃত হবেন।

এ সময় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, বিইআরসি একটা কোয়াসি জুডিশিয়াল অথরিটি (আধা-বিচারিক কর্তৃপক্ষ)। নিজের থেকে আপিল করে সেই কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের মধ্যে শতকরা ৬৫ ভাগকে আমরা বের করে নিয়ে আসছি। বিইআরসির সিদ্ধান্তে তারা ছিল এবং তারা সবাই কিন্তু প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। নিচের থেকে ৬৫ শতাংশ কিন্তু, ওপর তলার নয়।

তিনি বলেন, আজকে যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির ওপরে দাঁড়িয়ে আছি এবং নিশ্চয়ই আপনারা বোঝেন, এত দীর্ঘ দুর্নীতির যে একটা চক্র বিশেষ করে বিদ্যুৎ এবং জ্বালানিকে ঘিরে। আবার সেখান থেকে বের হয়ে আসতে কী পরিমাণ সময় লাগতে পারে আপনারা নিশ্চয়ই বোঝেন। আমাদের উপদেষ্টা যেটা বলেছেন, একদিকে যেমন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাতে হাত দিতে হচ্ছে, যাতে আমরা বিদ্যুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ থাকতে পারি, জ্বালানিতে যাতে নিজেদের ওপর নির্ভর করতে পারি ও যাতে এটাকে সহনীয় পর্যায়ে আনতে পারি, আবার অপরদিকে এই মুহূর্তের সমস্যাগুলো আমাদের খুব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হচ্ছে।
 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!