আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশের ৫০ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মন্ত্রী আরও জানান, সারা দেশের ৯ শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হবে। এ ছাড়া মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের যেসব বিষয় কমন, সেসব বিষয়ে কমন প্রশ্ন করা হবে।
গতকাল সোমবার দুপুরে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের ২০তম ‘বিশ^বিদ্যালয় দিবস’ উদযাপন এবং ‘ডিনস ও ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ রুহুল আমিন অডিটরিয়ামে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা পদগুলো পূরণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।’
এরই মধ্যে ৫ লাখ শিক্ষার্থীর হাতে স্কুল ড্রেস তুলে দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব স্কুল শিক্ষার্থীকে ইউনিফর্ম দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।’
অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা : অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সারা দেশের ৯টি শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হবে। পাশাপাশি, মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের যেসব বিষয় কমন, সেসব বিষয়ে কমন প্রশ্ন করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই না শিক্ষার মধ্যে কোনো বৈষম্য থাকুক। মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিকায়ন করার জন্য সেটিতে কারিগরি শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করছি।’
শিক্ষা খাতে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা খাতের উন্নয়নের জন্য ব্যাপক কাজ করছেন। সিলেবাস ও কারিকুলাম ক্রমান্বয়ে পরিবর্তন করা হচ্ছে। আনন্দময় শিক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শিশুদের জন্য খেলাধুলা, নীতি-নৈতিকতাসহ বিভিন্ন বিষয় শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।’
শিক্ষা বাজেট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেট জিডিপির পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত দিতে রাজি আছেন। কিন্তু জিডিপির পাঁচ শতাংশ বাজেট ব্যবস্থাপনা করার সক্ষমতা এই মুহূর্তে আমাদের নেই। ক্রমান্বয়ে আমরা ধাপে ধাপে বাজেট বাড়াব।’
বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহান, নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য ফখরুল ইসলাম, বাংলাদেশ বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মামুন আহমেদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।
আলোচনা সভা শেষে শিক্ষা, গবেষণাসহ বিভিন্ন খাতে অবদানের জন্য ৪৯ জন শিক্ষক ও মেধাবী শিক্ষার্থীকে ডিনস অ্যাওয়ার্ড এবং তিনজন শিক্ষককে ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ দেওয়া হয়।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন