সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ আবারও পিছিয়েছে। এ নিয়ে ১২৭ বার এমন ঘটনা ঘটল। এদিকে পেরিয়ে গেছে ১৪ বছর। উদ্ঘাটিত হয়নি হত্যাকাণ্ডের রহস্য। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই ঘনীভূত হচ্ছে এক অস্বস্তিকর প্রশ্ন। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যাদের নাম, প্রভাব, সম্ভাব্য স্বার্থ বা ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট যোগসূত্র নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে, তাদের সবাইকে কি আদৌ তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে? এই প্রশ্নের কেন্দ্রে বারবার উঠে এসেছে দেশের অন্যতম প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠী সামিট গ্রুপের নাম। বিভিন্ন সময়ে এই গোষ্ঠীর সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা বা অন্তত ঘটনাটির সঙ্গে তাদের কোনো যোগসূত্র আছে কি না- তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। কিন্তু পুলিশ, ডিবি কিংবা র্যাব-টাস্কফোর্স বা পিবিআই- যে সংস্থাই তদন্তে যুক্ত থাকুক না কেন, প্রকাশ্য রেকর্ডে এমন কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই, যাতে বোঝা যায়, সামিট-সংক্রান্ত অভিযোগ বা সন্দেহের দিকটি কখনো গুরুত্ব দিয়ে অনুসন্ধান করা হয়েছে। তাই স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, এটি কি নিছক তদন্তের ব্যর্থতা, নাকি রাজনৈতিক-করপোরেট প্রভাবের কারণে সচেতনভাবে এড়িয়ে যাওয়া এক ‘নিষিদ্ধ লাইন’?
সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তের শুরু থেকেই সবচেয়ে বড় অভিযোগ- এটি কখনোই স্বাভাবিক অপরাধ তদন্তের মতো এগোয়নি। বারবার তদন্ত সংস্থা বদলেছে, আদালতে সময় চাওয়া হয়েছে; কিন্তু জনসমক্ষে এমন কোনো পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা আসেনি যে- এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কোন কোন মোটিভ, কার কার স্বার্থ, কোন কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য ভূমিকা খতিয়ে দেখা হয়েছে। তদন্তের এই দীর্ঘসূত্রতার পেছনে আওয়ামী লীগ আমলের রাজনৈতিক বাস্তবতাকে অনেকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন। কারণ, সামিট গ্রুপ শুধু বড় শিল্পগোষ্ঠীই নয়; দীর্ঘদিন ধরেই গোষ্ঠীটির সঙ্গে আওয়ামী ক্ষমতার কেন্দ্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জ্বালানি, অবকাঠামো ও বিভিন্ন বড় প্রকল্পে সুবিধাভোগী ব্যাবসায়িক গোষ্ঠীগুলোর তালিকায় সামিটের নাম বারবার এসেছে। এই প্রেক্ষাপটে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে যদি সামিট-সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ বা তথ্য থেকেও থাকে, তাহলে সেটি তৎকালীন তদন্তকারীরা কতটা স্বাধীনভাবে অনুসন্ধান করতে পেরেছিলেন- সেই প্রশ্ন এখন আর পাশ কাটানো যাচ্ছে না।
সেই পুরোনো প্রশ্নে নতুন মাত্রা যোগ করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের সাম্প্রতিক দাবি। গত বুধবার তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে জুলকারনাইন দাবি করেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সামিট কমিউনিকেশনে মালিকানা রয়েছে। পোস্টে তিনি জয় ও তার সাবেক স্ত্রী ক্রিস্টিনা ওয়াজেদের বিবাহবিচ্ছেদ-সংক্রান্ত সেটেলমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্টের অংশবিশেষও প্রকাশ করেন।
জুলকারনাইনের দাবি, আদালতে দাখিল করা উভয়পক্ষের স্বাক্ষরিত ওই নথিতে সামিট কমিউনিকেশনে জয়ের মালিকানার উল্লেখ আছে। একই সঙ্গে সেখানে বলা হয়েছে, জয় তার সাবেক স্ত্রীকে এককালীন ১০ লাখ ডলার এবং ২০২৪ থেকে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত প্রতি মাসে ২০ হাজার ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পোস্টে জুলকারনাইন প্রশ্ন তোলেন, যদি শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সামিট গ্রুপ রাষ্ট্রীয় আনুকূল্যে ব্যবসায়িকভাবে লাভবান হয়ে থাকে এবং একই সঙ্গে শেখ হাসিনার ছেলের ওই গ্রুপে অংশীদারিত্ব থেকে থাকে, তাহলে সেটি গুরুতর স্বার্থের সংঘাতের ইঙ্গিত দেয় কি না?
এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা জরুরি। তবে অভিযোগটি সত্য হোক বা না হোক, এটি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত ঘিরে আরেকটি বড় প্রশ্ন সামনে আনে : সামিট গ্রুপের সঙ্গে ক্ষমতার কেন্দ্রের এত ঘনিষ্ঠ সম্ভাব্য যোগসূত্র থাকলে, এই হত্যাকাণ্ডে সামিট-সংক্রান্ত অভিযোগগুলো কি সে কারণেই তদন্তের বাইরে রাখা হয়েছিল?
এখানেই মামলাটি আরও অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। কারণ, আওয়ামী লীগ সরকার আর ক্ষমতায় নেই। যে রাজনৈতিক ছায়া বা ক্ষমতার প্রভাবের কথা বলে এতদিন তদন্তের স্থবিরতা ব্যাখ্যা করা হতো, সেই সরকার বিদায়ের পরও মামলার গতিপথে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসেনি। তদন্ত প্রতিবেদন এখনো আদালতে জমা পড়ছে না; বরং সময় চাওয়ার পুরোনো সংস্কৃতিই বহাল রয়েছে।
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, প্রশ্ন তাই দ্বিমুখী। আওয়ামী লীগ আমলে যদি সামিট বা অন্য কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠীকে তদন্তের বাইরে রাখা হয়ে থাকে, তাহলে অন্তর্বর্তী সরকার এসে কেন সেই ফাইল নতুন করে খোলেনি? আর বর্তমান সরকারই বা কেন পারেনি? রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরও যদি তদন্ত একই জায়গায় স্থবির থাকে, তাহলে এ বিষয়ে শুধু অতীত সরকারকে দোষারোপ করে দায়মুক্ত হওয়া যাবে না। বরং তখন সন্দেহ তৈরি হয়, প্রভাবশালী করপোরেট-রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক কি এখনো তদন্তকে প্রভাবিত করছে?
এই মামলার দীর্ঘসূত্রতা এখন কেবল একটি খুনের তদন্তে বিলম্ব নয়; এটি রাষ্ট্রের তদন্তসামর্থ্য, জবাবদিহিতা এবং ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে যাওয়ার সদিচ্ছারও পরীক্ষা। ১৪ বছরেও যদি তদন্ত সংস্থা স্পষ্ট করে না জানায়- কোন কোন সম্ভাব্য মোটিভ খতিয়ে দেখা হয়েছে, কার কার আর্থিক ও রাজনৈতিক সংযোগ বিশ্লেষণ করা হয়েছে, কোন কোন প্রভাবশালী গোষ্ঠীর ভূমিকা যাচাই করা হয়েছে- তাহলে ‘তদন্ত চলছে’ বাক্যটি আর গ্রহণযোগ্য থাকে না।
সাগর-রুনি হত্যা মামলা বাংলাদেশের সাংবাদিক সমাজের জন্য এক গভীর ক্ষত। কিন্তু রাষ্ট্রের জন্য এটি আরও বড় এক পরীক্ষার নাম। ১২৭ বার তদন্ত প্রতিবেদন পিছিয়ে যাওয়া শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, এটি বিচারহীনতার এক নির্মম প্রমাণ। কারণ, এত দীর্ঘ সময়ে যদি তদন্ত সংস্থা একটি গ্রহণযোগ্য প্রতিবেদনই দিতে না পারে, তাহলে জনগণের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগবে- তদন্তে কি সত্যিই হত্যাকারীকে খোঁজা হচ্ছে, নাকি কাউকে আড়াল করা হচ্ছে?
সামিট গ্রুপের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ, আলোচনা বা সন্দেহ বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে- সেগুলো ভিত্তিহীন হলে তদন্তে সেটিও পরিষ্কারভাবে উঠে আসা উচিত ছিল। আর যদি সেখানে কোনো বাস্তব সূত্র থেকেই থাকে, তাহলে তা অনুসরণ না করা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়। একইভাবে, জুলকারনাইন সায়েরের প্রকাশিত নথিতে সজীব ওয়াজেদ জয়ের কথিত মালিকানা-সংক্রান্ত তথ্য যদি সত্যতা যাচাইয়ের যোগ্য হয়, তাহলে সেটিও তদন্তের পরিধির বাইরে রাখার সুযোগ নেই। কারণ এই মামলায় সবচেয়ে বড় সংকট এখন প্রমাণের অভাব নয়, বরং তদন্তের বিশ্বাসযোগ্যতা।
অপরাধ বিশ্লেষকরা মনে করেন, এখন প্রয়োজন মামলাটিকে নতুন করে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও সময়বদ্ধ তদন্তের আওতায় আনা। শুধু পুরোনো তদন্ত সংস্থার ওপর আরেক দফা সময় বাড়িয়ে দেওয়ায় কাজ হবে না। বরং তদন্তে স্পষ্টভাবে খতিয়ে দেখা দরকার, সামিট গ্রুপ-সংক্রান্ত অতীতের সব অভিযোগ, তথ্য ও সম্ভাব্য যোগসূত্র, তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক সম্পর্ক, সজীব ওয়াজেদ জয়ের কথিত মালিকানা-সংক্রান্ত নথির সত্যতা এবং এসবের কোনোটির সঙ্গে সাগর-রুনি হত্যার সম্ভাব্য মোটিভ, চাপ বা প্রভাবের সম্পর্ক ছিল কি না। সাগর-রুনি হত্যা মামলায় যদি এখনো কিছু নাম ‘অস্পৃশ্য’ থেকে থাকে, সেই সংস্কৃতি ভাঙার দায়ও বর্তমান সরকারের। না হলে ১২৭ বার পিছিয়ে যাওয়া তদন্ত প্রতিবেদন শুধু একটি মামলার বিলম্ব হিসেবেই নয়, বাংলাদেশে ক্ষমতাবানদের জন্য আলাদা বিচারব্যবস্থা আছে- এই ধারণার আরেকটি সরকারি দলিল হিসেবে ইতিহাসে থেকে যাবে।
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন গত ১৮ জুন আদালতে জমা দেওয়ার কথা ছিল পিবিআইয়ের। কিন্তু তারা সেটা জমা দিতে বরাবরের মতো ব্যর্থ হয়ে নতুন করে সময় প্রার্থনা করে। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত আবেদন মঞ্জুর করে তদন্ত প্রতিবেদন জমার জন্য আগামী ২২ জুলাই নতুন তারিখ ধার্য করেছেন।
সাগর ছিলেন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক এবং রুনি এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক। হত্যাকাণ্ডের সময় ওই বাসায় ছিল তাদের একমাত্র সন্তান সাড়ে চার বছর বয়সি মিহির সরওয়ার মেঘ। সেই ছোট্ট শিশুটি এখন ‘এ’ লেভেল পাস করেছে।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় সাগর ও রুনি খুন হন। এ ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন। প্রথমে তদন্ত শুরু করে থানা পুলিশ। পরে তদন্তভার পায় ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। পরবর্তী সময়ে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় র্যাবকে। তারা কোনো সুরাহা করতে পারেনি এই মামলার। উল্টো বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পুরো তদন্ত প্রক্রিয়াকে একটি জটিল পরিস্থিতিতে ফেলে দেয়। এরপর হাইকোর্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্সকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। টাস্কফোর্সের পক্ষ থেকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ হয়েছেন পুলিশের পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজিজুল হক।
পুলিশ সূত্র জানায়, ঘটনার পর থেকে এ পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে রুনির কথিত বন্ধু তানভীর রহমান ও পলাশ রুদ্র পাল নামে আরেকজন জামিনে আছেন। এখনো কারাগারে বন্দি রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, আবু সাঈদ, মিন্টু, কামরুল হাসান ওরফে অরুণ ও এনামুল। মিন্টু এই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেও অন্য মামলায় কারাগারে আছেন।
সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পর তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বলেছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে। পুলিশের তৎকালীন মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেছিলেন, ‘তদন্তে প্রণিধানযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি এ বিষয়ে ইতিবাচক তথ্য দিতে পারব বলে আশা করছি।’ দুই বছর পর ২০১৪ সালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান মহিউদ্দীন খান আলমগীর। ওই সময় তিনি হত্যার রহস্য উন্মোচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করেন। কিন্তু কার্যত কোনোটাই হয়নি। বরং ছড়িয়েছে নানা অপতথ্য।
হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি, বঁটি, ছুরির বাঁট, সাগরের হাত বাঁধার ওড়না ও রুনির পরনের কাপড় ডিএনএ পরীক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পরীক্ষাগারে পাঠায় র্যাব। পাশাপাশি সাগর-রুনির ভাড়া বাসার ভাঙা গ্রিলের অংশ, ঘটনাস্থলে পাওয়া চুল, ভাঙা গ্রিলের পাশে পাওয়া মোজা, দরজার লক, দরজার চেইন ও ছিটকিনির ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সেখানে পাঠানো হয়। হত্যায় সন্দেহভাজন কয়েক ব্যক্তির ডিএনএ নমুনাও যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছিল। পরে এসব পরীক্ষার প্রতিবেদন র্যাবের কাছে আসে। হত্যার ঘটনায় বিভিন্ন পর্যায়ে মোট ১৬০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে র্যাব। এদিকে র্যাবের এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তাই পরিবর্তন হয় আটবার। ঘটনার পর থেকে পুরো তদন্তেই শুরু হয় এক ধরনের লেজে গোবরে অবস্থা। ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর এ মামলার তদন্তে চার সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সর্বশেষ এই টাস্কফোর্স বা পিবিআই কাজ শুরু করলেও বিন্দুমাত্র অগ্রগতি নেই। এখন পর্যন্ত খুনি শনাক্তের জন্য কার্যকর কোনো সূত্র বের করা দূরে থাক, হত্যাকাণ্ডের মোটিভই বের করতে পারেনি কেউ।
মামলার বাদী ও রুনির ভাই নওশের আলম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, পিবিআই আমার সঙ্গে কয়েকবার কথা বলেছে। সবকিছু মিলিয়ে মনে হচ্ছে, সরকার ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারবে। তবে তদন্তের ফল না পাওয়া পর্যন্ত আশাবাদী হতে পারছি না। বলতে পারেন সাগর ও রুনির দুই পরিবারই হতাশ।
পিবিআইয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, তারা এর আগের তদন্ত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। নতুন করেও অনেকের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকও রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পরীক্ষাগার থেকে বিভিন্ন আলামতের পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রুনিকে পেছন থেকে ডান হাত দিয়ে পেটের ডান পাশে কোপ দেওয়া হয়। তার পরনের টি-শার্টে কোনো এক ব্যক্তির ডিএনএ পাওয়া গেছে। সবুজ রঙের ওড়না দিয়ে সাগরের হাত-পা বাঁধা ছিল। সেখানে আরেকজনের ডিএনএ পাওয়া গেছে। পিবিআই এখন অজ্ঞাতপরিচয় ওই দুই ব্যক্তির ডিএনএ মেলাতে সন্দেহভাজনদের খুঁজছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজিজুল হক রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, সঠিক তদন্তের স্বার্থে আর প্রয়োজনেই তারা সময় নিচ্ছেন। শুধু সামিট গ্রুপ কেন, সাগর-রুনির সঙ্গে কারো ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সম্পত্তিগত, পেশাগত শত্রুতা ছিল কি না- সেগুলোও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত সঠিক কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তদন্ত চলছে। এর বাইরে তিনি আর কিছু জানাতে অস্বীকৃতি জানান।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন