× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

ফারুক আহমেদ শাহেদ 

প্রকাশিত: জুন ২৫, ২০২৬, ০১:১৯ এএম

প্রার্থিতা নিয়ে দ্বন্দ্বে ভাঙছে এগারো দল!

ফারুক আহমেদ শাহেদ 

প্রকাশিত: জুন ২৫, ২০২৬, ০১:১৯ এএম

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ গ্রাফিক্স

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ গ্রাফিক্স

নতুন ধারার রাজনীতি ও রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্দেশ্যে নির্বাচনি ঐক্য গড়েছিল এগারো দল। তবে পাঁচ মাসের মধ্যেই বেশ কিছু ইস্যুতে এই ঐক্যে ভাঙনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দলগুলোর প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির গরমিলে রাজনৈতিক দূরত্ব প্রকাশ্যে এসেছে। সংরক্ষিত নারী আসনে সব শরিকের মতামত না নেওয়াকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ চরম রূপ নিয়েছে। স্থানীয় নির্বাচন, সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটিতে অংশগ্রহণে মতপার্থক্য, নারীদের প্রতি দ্বৈতনীতি, এনসিপিতে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সাবেক নেতাকর্মীদের যোগদান, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) বিল নিয়ে এনসিপির অবস্থান এবং একক কর্তৃত্বের অভিযোগ ইত্যাদি জোটের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

এগারোদলীয় জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের অভ্যন্তরে ইতিমধ্যে জোট ছাড়ার আলোচনা চলছে। আরও কয়েকটি দল জোটে থাকা নিয়ে তাদের অসন্তোষের কথা জানিয়েছে।

শরিক দলগুলোর নেতারা জানান, জোটের দলগুলো একসঙ্গে রেখেছে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে। কর্যত অন্য বিষয়ে ‘নামকাওয়াস্তে’ জোট রয়েছে আমাদের।  সংসদে বিরোধীদলীয় অবস্থান আর জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে এই জোটে কার্যকর সমন্বয় নেই।

এদিকে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কয়েকটি সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমঝোতা না হলে জোটের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়বে বলে মনে করছেন নেতারা। যদিও এনসিপির বাইরে জোটের অন্য শরিকরা বলছেন, জোটের সিদ্ধান্তের বিষয়ে তাদের মতামতকে তরুণ দলটির মতো সমান গুরুত্ব দেওয়া হয় না। একই সঙ্গে জামায়াতের নীলফামারী-৪ আসনের এমপি জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে নিজেকে ‘মুক্তিযুদ্ধে শহিদের সন্তান’ দাবি করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও তার নির্বাচনি হলফনামা ঘেঁটে দেখা যায়, তিনি ১৯৮১ সালে জন্মগ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে তার বাবাও জীবিত, যে ঘটনায় সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। তবে দলের পক্ষ থেকে এমন ঘটনায় কোনো বিবৃতি না দেওয়ায় শরিকদের অনেকেই মনে করছেন এটি দলীয় দুর্বলতা।

এগারোদলীয় জোটের অন্যতম শরিক, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং দলটির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সারজিস আলম জানান, এনসিপির প্রাপ্তি ও প্রত্যাশার মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। দলের অনেক প্রত্যাশাই পূরণ হয়নি। সরকারের বিরুদ্ধে শক্তিশালী অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে সংসদে জামায়াতের যে ভ‚মিকা আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম, তা প্রত্যাশা অনুযায়ী পাচ্ছি না। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সঙ্গে জোটে থাকার কারণে তাদের মধ্যে একটা মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব রয়েছে।

এদিকে স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে জোটের জামায়াত এবং এনসিপি নেতাদের মধ্যে আলোচনা ও প্রচারণা দেখা গেলেও অন্যরা এখন নীরব ভূমিকা পালন করছে। তাদের মতে, জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় নির্বাচনেও একসঙ্গে নির্বাচন হওয়া উচিত। যদিও এই মতের সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্নমত পোষণ করছে জামায়াত এবং এনসিপি।

যার ধারাবাহিকতায় এনসিপি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নাম। অন্যদিকে জামায়াত দক্ষিণে মেয়র পদে প্রাথমিকভাবে কয়েকজনকে চূড়ান্ত করলেও চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করেনি। যদিও জামায়াতের প্রচারণা চলছে দেশজুড়ে।

এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপির মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেওয়া খুবই স্বাভাবিক। জাতীয় নির্বাচনে তারা জোটবদ্ধ হলেও স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় উভয় দলই এককভাবে নিজেদের শক্তি যাচাইয়ের জন্য আলাদা প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

এনসিপির দলীয় সূত্রে জানা যায়, জামায়াত যদি ঢাকা দক্ষিণের মেয়র পদে ছাড় না দেয়, তাহলে জোট নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নেবে এনসিপি। এ বিষয়ে দলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শীর্ষ নেতা জানান, ঢাকা দক্ষিণে ছাড় না পেলে জোটের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়বে। এনসিপির জোট ছেড়ে বের হওয়াও অসম্ভব নয়।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জুর রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘১১-দলীয় জোট মূলত একটি নির্বাচনি ঐক্য ছিল। নির্দিষ্ট রাজনৈতিক এজেন্ডা বা দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচির ভিত্তিতে জোটটি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সে সময় জামায়াতের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছিল যে এটি শুধু একটি ‘নির্বাচনি জোট’। নির্বাচনের পর এই জোট কার্যকর থাকার কথাও ছিল না। তবে বর্তমানে জুলাই সনদ এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় জোটটি কোনোভাবে টিকে আছে।

জোটের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি সম্পর্কে মঞ্জু বলেন, ‘কিছু টানাপড়েন থাকাটা স্বাভাবিক। কারণ জোটের কিছু দল সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে, আবার কিছু দল সংসদের বাইরে রয়েছে। তা ছাড়া জোটটি আনুষ্ঠানিকভাবে খুব বেশি সংগঠিত নয়। ফলে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য দেখা দিচ্ছে।’

এদিকে, খেলাফত আন্দোলনের ভেতরে জোট ছাড়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে জোরেশোরে। ১১-দলীয় জোট ছাড়ছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে দলের মহাসচিব ইউসুফ সাদিক হক্কানী রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘এগারো দলের প্রোগ্রামে বেশ কিছু সময় ধরেই আমরা যাচ্ছি না। তবে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত এখনো আমরা নিইনি। আমাদের মজলিসে আমেলার সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে এগারো দল একসঙ্গে কাজ করছে।’  ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক আন্দোলনে প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া প্রায় ৩০ হাজার মানুষ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। সুতরাং জুলাই সনদ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের নিষ্পত্তি সংসদে চাই আমরা। অন্যথায় রাজপথে ফয়সালা হবে।’

এদিকে জোট ভাঙার আশঙ্কা নেই জানিয়ে ১১-দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে জোটের সব শরিকের যোগাযোগ রয়েছে। আমরা জোট থেকে বের হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখছি না। নিয়মিত এগারো দলের নানামুখী কর্মসূচি চলমান রয়েছে।’

বেশ কিছু অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বৃহৎ একটি জোটে নানা ধরনের কথার গুঞ্জন থাকতে পারে। তবে এগুলো পুরোপুরি সত্য নয়। কেউ যদি এমন অজুহাত দাঁড় করায় সেটা ভিন্ন। আমাদের মধ্যে এ রকম কিছু নেই। আমরা সবাইকে সমান দৃষ্টিতে সমান গুরুত্ব-মর্যাদা দিই।’

প্রসঙ্গত,  ১১-দলীয় এই নির্বাচনি জোট গঠনের পর থেকেই আসন ভাগাভাগি নিয়ে দলগুলোর মধ্যে এক ধরনের মনস্তাত্তি¡ক টানাপড়েন দেখা দেয়। বিশেষ করে জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে আসন বরাদ্দের ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দূরত্ব সৃষ্টি হয়। এই আসন সমঝোতা নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক এবং দর-কষাকষি চূড়ান্ত রূপ না পাওয়ায় শেষ মুহূর্তে চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয়। একই সময়ে এতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ লেবার পার্টিসহ অন্যান্য দল যুক্ত হয়।

Link copied!