× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ২৫, ২০২৬, ০২:৩৭ এএম

ঢাকার কাছে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল

বড় ঝুঁঁকির শঙ্কা কম

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ২৫, ২০২৬, ০২:৩৭ এএম

বড় ঝুঁঁকির শঙ্কা কম

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গত সোমবার রাতে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে ৪ মাত্রার এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে, যা ঢাকার আগারগাঁও থেকে মাত্র ১৬ কিলোমিটার দূরে। এর আগে গত বছরের নভেম্বরে নরসিংদীতে ৫ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছিল। ঢাকার এত কাছে পরপর ভূমিকম্পের উৎসস্থল হওয়া নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে বিশেষজ্ঞদের। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার আশপাশের যেসব ভূমিকম্প হচ্ছে, তা নিয়ে এখনই খুব বেশি আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ, এসব এলাকায় বড় ভূমিকম্প সৃষ্টির মতো ফল্ট লাইন বা চ্যুতির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এসব এলাকায় বড় ভূমিকম্প হওয়ার ইতিহাসও নেই। তবে সিলেটের অদূরে ডাউকি বা আসামের মতো জায়গায় বড় ভূমিকম্প হলে, ঢাকায় এর ব্যাপক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা আছে।

ঢাকার আশপাশের ভূমিকম্প কেন : বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণাকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত বলেন, ‘সোমবার ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে। এটি গত নভেম্বরে অনুভূত হওয়া ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছিই। আপনারা জানেন যে, টেকটোনিক প্লেটগুলো সব সময়ই নড়াচড়া করছে। এসব প্লেটের মুভমেন্টের কারণেই এই অঞ্চলগুলোয় ভূমিকম্প একটু বেশি হচ্ছে। এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।’

বাংলাদেশের ভেতরে বিশেষ করে ঢাকার আশপাশে ভূমিকম্প কেন হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশের উত্তরে হিমালয়ের নিচে ইউরেশিয়ান প্লেটের ওপর ইন্ডিয়ান প্লেট চাপ তৈরি করছে। এই দুটো বড় টেকটোনিক প্লেট। এ কারণেই ওই অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ। এর বাইরে তুলনামূলকভাবে ছোট বার্মা প্লেট বাংলাদেশের ভূখ-ে একটা চাপ তৈরি করছে। এ কারণেই মূলত এখানে ছোটখাটো ভূমিকম্পগুলো হচ্ছে।

বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঢাকাকে কেন্দ্র ধরে যদি ৫০ বা ১০০ কিলোমিটার এলাকার কথা বলি, তবে ইতিহাসে এখানে বড় ভূমিকম্প হওয়ার কোনো রেকর্ড নেই। বড় ভূমিকম্প হওয়ার জন্য বড় ফল্ট লাইন থাকতে হয়। এই অঞ্চলে এমন বড় কোনো ফল্ট লাইনেরও প্রমাণ নেই। সবকিছু বিবেচনায় এই অঞ্চলে বড় কোনো ভূমিকম্প হওয়ার আশঙ্কা নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই অঞ্চলগুলোয় বিভিন্ন সময়ই ৪-৫ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে। সোমবার যেটি হয়েছে, তা খুব স্বাভাবিক।’

একই বিষয়ে কথা বলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী। তিনি বলেন, ‘গত দুই বছরে আট-দশটির মতো ভূমিকম্প হয়েছে, যার কেন্দ্র ছিল ঢাকার আশপাশে, যেমন নরসিংদীতে। তবে ঢাকায় সেভাবে কোনো ফল্ট লাইন নেই। ঢাকার আশপাশে যেগুলো হচ্ছে, সেগুলো মূলত স্থানীয় (লোকাল) ফল্ট লাইনের কারণে হচ্ছে। ঐতিহাসিকভাবে এখানে বড় ভূমিকম্প হওয়ার রেকর্ড নেই। তাই আমরা এখনই বলতে পারি না যে, এটি সামনে আমাদের জন্য বড় কোনো ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।’

ধসে পড়তে পারে বহু ভবন : অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী জানান, ঢাকার আশপাশে বড় ফল্ট লাইন না থাকলেও দেশের অন্যান্য প্রান্ত বা প্রতিবেশী দেশগুলোর ফল্ট লাইন থেকে বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ এমন একটি অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে যেকোনো সময় বড় ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে। ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, আমাদের দেশে ৮ মাত্রার ভূমিকম্পের একটি চক্র বা ‘রিটার্ন পিরিয়ড’ রয়েছে, যা সাধারণত ৩০০ থেকে ৩৫০ বছর পরপর আসে। সে হিসাবে ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হয়তো এখনই আঘাত হানবে না। তবে আশঙ্কার বিষয় হলো, ৭ বা ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প যেকোনো সময় আঘাত হানতে পারে।’

উদাহরণ টেনে তিনি জানান, ১৮৬৯ সালে আসামের কাছাড়ে ৭.৫, ১৮৮৫ সালে বেঙ্গল আর্থকোয়েক ৭.১, ১৯১৮ সালে শ্রীমঙ্গলে ৭.৬ এবং ১৯৩০ সালে আসামের ধুবড়িতে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল। ১৫০-২০০ বছরের চক্র অনুযায়ী, একটি ৭ মাত্রার ভূমিকম্প এখন যেকোনো সময় ঘটার অপেক্ষায় রয়েছে।

জাইকা এবং সিডিএমপির একটি জরিপের তথ্য উল্লেখ করে এই বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘ঢাকায় ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে প্রায় ৭২ হাজার ভবন ধসে পড়তে পারে। ঢাকায় মোট বাসযোগ্য স্থাপনা রয়েছে প্রায় ২১ লাখ। এর মধ্যে ১৫ লাখই ছোট বিল্ডিং বা টিনশেড, যা ভেঙে পড়লে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা কম। কিন্তু মূল বিপদের কারণ হলো অবশিষ্ট ৬ লাখ বহুতল পাকা দালান। আমাদের প্রাথমিক ধারণা, অন্তত ৪০ শতাংশ ভবন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।’

অধ্যাপক আনসারী বলেন, ‘ভূমিকম্প আজ হোক বা কাল, আসবেই। দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশে ভূমিকম্পের প্রস্তুতি বলতে সরকার মূলত ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বৃদ্ধি বা উদ্ধারকারী যন্ত্রপাতি কেনাকেই বুঝে থাকে। কিন্তু মূল প্রস্তুতি হওয়া উচিত ভবন নির্মাণে। প্রকৌশলবিদ্যায় একটি কথা প্রচলিত আছে, ভূমিকম্প মানুষ মারে না, দুর্বল ভবনই মানুষকে মারে। তাই মানুষের জীবন বাঁচাতে হলে ভবন উপযুক্তভাবে নির্মাণ করার এবং পুরোনো ভবনগুলো মজবুত করা (রেট্রোফিটিং) ছাড়া বিকল্প নেই।’

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!