রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় পেঁয়াজের বাজারে বড় ধরনের দরপতনে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারদর অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন হাজারো পেঁয়াজচাষি। সংরক্ষণে পচন, ওজন কমে যাওয়া এবং বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ সব মিলিয়ে হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন কৃষক পরিবারগুলো। স্থানীয় কৃষকরা জানান, অন্যান্য বছর এ সময়ে প্রতি মণ পেঁয়াজ ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে জাতভেদে দাম নেমে এসেছে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায়। এতে গত বছরের তুলনায় প্রতি মণে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত কম দাম পাচ্ছেন তারা।
চাষিদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করে রাখায় অনেক পেঁয়াজ শুকিয়ে ওজন কমে যাচ্ছে। আবার পচে নষ্ট হচ্ছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পেঁয়াজ। এর পাশাপাশি বাজারে ওজন নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ফলে উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। পুঠিয়ার ঐতিহ্যবাহী বানেশ্বর হাটে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা কৃষক আব্দুল মমিন বলেন, ‘এক মণ পেঁয়াজ বিক্রি করে এখন মাত্র এক কেজি গরুর মাংস কেনা যায়। সংসারের সবজি কিনতেও আরও এক মণ পেঁয়াজ বিক্রি করতে হয়। গত ২০ বছরে এমন দাম দেখিনি।’ কৃষকদের দাবি, গত প্রায় দুই দশকের মধ্যে বছরের এই সময়ে পেঁয়াজের এত কম দাম আর দেখা যায়নি। অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে চাষ করেছেন। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের আর্থিক অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের কারণেই পেঁয়াজের দাম কমেছে। পেঁয়াজ ব্যবসায়ী খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘এবার উৎপাদন বেশি হয়েছে। কিন্তু সংরক্ষণ সমস্যা থাকায় কৃষকরা ঘরে রাখতে পারছেন না। ফলে একসঙ্গে বেশি পেঁয়াজ বাজারে আসছে। মোকামে বেশি দামে বিক্রি করতে না পারলে বেশি দামে কেনাও সম্ভব নয়।’
পুঠিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী সরকার বলেন, ‘বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কমেছে। অনেক কৃষক পচনের আশঙ্কায় দ্রুত বিক্রি করছেন। অতিরিক্ত সরবরাহের কারণেই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে কিছুদিন পর দাম বাড়তে পারে বলে আশা করছি।’ কৃষকদের দাবি, বাজার নিয়ন্ত্রণ, সংরক্ষণ সুবিধা বৃদ্ধি এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে দ্রুত সরকারি উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তা না হলে আগামী মৌসুমে অনেক কৃষক পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ হারাতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন