প্রচলিত চাষাবাদের গ-ি পেরিয়ে মাচা পদ্ধতিতে সবজি চাষ এখন মেহেরপুরের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। উৎপাদন বৃদ্ধি, খরচ কমানো এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের এ পদ্ধতি কৃষকদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এতে বাড়ছে আয়, কমছে ঝুঁকি। বর্ষার পানি, রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ এড়িয়ে মাচা পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন করায় কৃষকরা পাচ্ছেন ভালো ফলন ও বাজারে ন্যায্যমূল্য। কৃষকদের উৎসাহিত করতে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।
মেহেরপুরের বিভিন্ন মাঠ এখন সবুজের সমারোহে ভরা। বাঁশের খুঁটি ও তার দিয়ে তৈরি মাচার ওপর ঝুলছে লাউ, করলা, শসা, চিচিঙ্গা, চালকুমড়া ও বরবটির সারি। মাটির সংস্পর্শ এড়িয়ে বেড়ে ওঠা এসব সবজি কৃষকদের জন্য হয়ে উঠেছে লাভজনক চাষাবাদের নতুন দিগন্ত।
কৃষকরা জানান, একবার মাচা তৈরি করলে তা ব্যবহার করে বছরে তিনবার পর্যন্ত সবজি আবাদ করা সম্ভব। মাটিতে না থাকায় সবজি পচন, রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হয়। পাশাপাশি সার প্রয়োগ, সেচ ও পরিচর্যার খরচও তুলনামূলক কম লাগে। ফলে কম খরচে বেশি লাভ পাচ্ছেন তারা।
কালিগাংনী গ্রামের কৃষক আসাদুল ইসলাম ও বদর উদ্দীন বলেন, মেহেরপুরের বিভিন্ন মাঠে এখন মাচা পদ্ধতিতে সবজি চাষ বাড়ছে। এ পদ্ধতিতে ফলন বেশি হয়, সবজির গুণগত মান ও রং ভালো থাকে। তাই বাজারেও ভালো দাম পাওয়া যায়।
ধলা গ্রামের সবজি চাষি রহিম জানান, চলতি বছর তিনি সাড়ে পাঁচ বিঘা জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেছেন। এর মধ্যে দেড় বিঘা জমিতে পেঁপে এবং বাকি সাড়ে তিন বিঘা জমিতে করলা, জালি ও চিচিঙ্গা চাষ করেছেন। তার মতে, মাচা পদ্ধতিতে উৎপাদিত সবজির মান ভালো হওয়ায় বিষমুক্ত সবজির চাহিদাও বেশি।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে মেহেরপুরে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে মাচা পদ্ধতিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি উৎপাদন হচ্ছে।
কৃষি বিভাগের আশা, এসব জমি থেকে প্রায় ৩৭ হাজার মেট্রিক টন সবজি উৎপাদন হবে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১২০ কোটি টাকা। গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মতিয়র রহমান বলেন, ‘কৃষকদের মাচা পদ্ধতিতে সবজি চাষে উৎসাহিত করছে কৃষি বিভাগ। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে বিষমুক্ত ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষকদের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।’

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন