নেত্রকোনায় স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীকে মৃত্যুদ- দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত। একই সঙ্গে মামলার অপর দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) একেএম এমদাদুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামি হলেনÑ কলমাকান্দা উপজেলার ক্ষুদ্র সিধলী গ্রামের মো. তোরাব আলীর ছেলে মো. শফিকুল ইসলাম। খালাসপ্রাপ্তরা হলেনÑ তার বাবা মো. তোরাব আলী ও তার স্ত্রী সখিনা খাতুন।
মামলার নথি অনুযায়ী, প্রায় ১০ বছর আগে পারভীন আক্তারের সঙ্গে শফিকুল ইসলামের বিয়ে হয়। তাদের দুই সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে পারভীন আক্তারকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগে বলা হয়, ২০১৯ সালের ২৫ মার্চ যৌতুকের টাকা আনতে চাপ দিলে পারভীন আক্তার অপারগতা প্রকাশ করেন। এ নিয়ে তাকে মারধর করা হয়। পরে তিনি বাবার বাড়ি চলে যান। স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে পুনরায় তাকে স্বামীর বাড়িতে পাঠানো হয় এবং ভবিষ্যতে নির্যাতন না করার অঙ্গীকার করা হয়। পরদিন ২৬ এপ্রিল রাতে পারভীন আক্তারের মৃত্যু হয়। পরে তাকে শ্বশুরবাড়ির ঘরের বারান্দায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। মরদেহে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলেও দাবি করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই মো. আবু ইউসুফ কলমাকান্দা থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। রায়ের বিষয়ে নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. নূরুল কবীর রুবেল বলেন, আদালত স্বামী শফিকুল ইসলামকে মৃত্যুদ- এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদ- (অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদ-) প্রদান করেন। অপর দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। রায়ের পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন