খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় চলতি মৌসুমে লটকনের বাম্পার ফলন হয়েছে। পাহাড়ের ঢালু ও স্যাঁতসেঁতে জমিতে উৎপাদিত এই টক-মিষ্টি ফলের চাহিদা স্থানীয় গ-ি পেরিয়ে সমতলেও ব্যাপক। তবে ফলন ভালো হলেও লটকনের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন চাষিরা। বর্তমান বাজারে প্রতি কেজি লটকন মাত্র ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, উপজেলায় এ বছর প্রায় ৮২ হেক্টর জমিতে লটকনের আবাদ হয়েছে। লটকন চাষে খরচ তুলনামূলক অনেক কম এবং ছয় বছর বয়স থেকেই গাছে ফলন আসতে শুরু করে। গাছ যত বড় হয়, ফলন ততই বাড়ে। অন্যান্য ফলের তুলনায় লটকন চাষে ঝুঁকি কম থাকায় স্থানীয় তরুণ উদ্যোক্তারা এখন এটি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
উপজেলার সবচেয়ে বড় লটকনচাষি দীপংকর প্রসাদ চাকমা জানান, ২০১২ সালে তিনি সাড়ে ৩০০ চারা রোপণ করেছিলেন। বর্তমানে ২৫০টি গাছে প্রচুর ফলন এলেও বাজারে দাম কম থাকায় হতাশ তিনি।
তিনি বলেন, ২৫০টি গাছে বিপুল পরিমাণ ফলন পেয়েছি, কিন্তু ব্যবসায়ীদের কাছে পুরো বাগানের লটকন মাত্র ২ লাখ ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে। দাম কম হওয়ায় আমাদের খুব একটা লাভ থাকছে না।
এদিকে পাহাড়ের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা হিসেবে লটকন চাষ জায়গা করে নিলেও পর্যাপ্ত হিমাগার ও সঠিক বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা না থাকায় ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন চাষিরা। এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা আশা করছেন, সরকারি পর্যায়ে বিপণনব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটলে কৃষকেরা এই মৌসুমি ফলের প্রকৃত দাম পাবেন এবং লটকন চাষে আরও উৎসাহিত হবেন।
লটকন চাষিদের এমন হতাশাজনক অবস্থার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, দীঘিনালায় এ বছর প্রচুর মিষ্টি লটকন উৎপাদন হয়েছে। লটকন চাষ খুব একটা পরিচর্চানির্ভর নয়, বছরে একবার গাছের গোড়ায় সামান্য সার দিলেই চলে। মূলত এটি একটি লাভজনক ফসল।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন