অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আগের সরকারগুলোর গৃহীত এক হাজার ৩০০টি উন্নয়ন প্রকল্প বর্তমান সরকারের জন্য বড় ধরনের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিকাংশ প্রকল্পের প্রাসঙ্গিকতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও সেগুলো পুরোপুরি বাতিল করা সম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীতে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমিতি আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘উন্নয়ন প্রকল্প যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য আমরা কিছু উদ্যোগ নিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ড্যাশবোর্ড থাকবে। মন্ত্রীদের কার্যালয়েও ড্যাশবোর্ড থাকবে। প্রকল্পের কাজের গতি কেমনÑ তা প্রতিদিন সেই ড্যাশবোর্ডে থাকবে। আমরা যদি নির্ধারিত সময়ে ৮০ শতাংশ প্রকল্পের কাজও শেষ করতে পারি, তা হলে ভালো প্রবৃদ্ধি হবে।
আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। রাজধানীর কাকরাইলে দি ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন অর্থনীতি সমিতির অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির আহ্বায়ক মাহবুব উল্লাহ। সভার সঞ্চালনা করেন সমিতির সদস্যসচিব মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বাজেটের মডেলে পরিবর্তন করার চেষ্টা করেছি। আমরা অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নের কথা বলেছি; যাতে দেশের সব মানুষ অর্থনীতিতে অংশ নিতে পারে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি হয়ে গিয়েছিল। একটি গোষ্ঠীই সব সুযোগ-সুবিধা পেত। তারা খুবই ক্ষমতাধর ছিল। আমরা সেখান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলাম।’
ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান আবু আহমেদ বলেন, ‘আগামী অর্থবছর সাড়ে ৬ শতাংশ জিডিপির প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করায় অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। তবে শেষ পর্যন্ত সাড়ে ৩ শতাংশ হলে কপালে দুঃখ আছে। এত কর ও সুদ দিয়ে দেশে ব্যবসা হবে না। নীতি সুদহার কমাতে হবে। না হলে বেসরকারি খাতে গতি আসবে না। অর্থনীতিতে মন্দাভাব চলে আসবে। তখন হয়তো মূল্যস্ফীতি বাড়বে না; কিন্তু আরও গরিব দিকে চলে যাবেন।’
আলোচনায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান র্যাপিডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক শরমিন্দ নীলোর্মি, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক মোহাম্মদ ইউনূস, কাজী ইকবাল ও অতনু রব্বানি, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক সায়মা হক বিদিশা প্রমুখ।
আরও বক্তব্য দেন এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এআইটি) ইমেরিটাস অধ্যাপক এ টি এম নূরুল আমিন, বিসিআইয়ের সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী (পারভেজ), বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল আমিন, ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) নির্বাহী পরিচালক ইমরান মতিন প্রমুখ।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন